দুর্নীতিবাজদের নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী নয় নৌপ্রতিমন্ত্রী

image_titleকোনো দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সোমবার কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন’ শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
গোলটেবিল বৈঠকে অপর আলোচক বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুর হুদার বক্তব্য প্রসঙ্গ ধরে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নাজমুল হুদা সাহেব স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটিতে সবাইকে রাখার কথা বলেছেন। কিন্তু আমি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলতে চাই, কোনো দুর্নীতিবাজ, কোনো অপরাধীকে নিয়ে এটা উদযাপন করা হবে না।

অপরাধী যারা জেলে আছে, তারা যদি নিজেদের সংশোধন করতে পারে তাহলে রাজনীতির মূলধারায় ফিরে আসতে পারে। তার আগে নয়।’
দেশের সবাই এখন আওয়ামী লীগ মোহাম্মদ নাসিমের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করুক এটা আমরাও চাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে অতীতের অপকর্ম ঢাকা যাবে না।’
নিরাপদ সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে একটা সড়ক দুর্ঘটনা হলে সবাই শুধু বর্তমান নিয়েই কথা বলেন। কিন্তু কীভাবে আজকের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এটা কেউ বলেন না। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দেশের সব সেক্টর ধ্বংস করে দেয়া হয়। সেই দুর্বৃত্তায়ন চলেছে বহু বছর। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সে ক্ষত সারানোর কাজ শুরু হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল রাষ্ট্রক্ষমতায় বলে এখন দেশের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন হচ্ছে। বিএনপি আমলে ধীরে ধীরে বিআরটিসিকে দুর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছিল, যা থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারছে না।’
নৌপ্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি করা হয়েছে। ১১১টি সুপারিশ আসছে। আশা করি সড়কমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন কলামিন্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও পরিবহন সেক্টরের নেতা মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য সফিকুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার, সংসদ সদস্য এ্যারোমা দত্ত, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, পরিবহন মালিক সমিতির নেতা এনায়েত উল্ল্যাহ খান প্রমুখ।
এইউএ/এনডিএস/এমএস