সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

আগামী দুই মাসের মধ্যে সব ব্যাংককে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে।সোমবার (১৫ এপ্রিল) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি আ. স. ম. ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেসরকারি ব্যাংকগুলো সরকারি টাকার আমানত পাওয়ার শর্তে সুদের হার একক ডিজিটে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, তারা সেই সুবিধা নিলেও সুদের হার একক সংখ্যায় আনতে পারেনি। এ জন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে বলে দিয়েছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দুই মাসের মধ্যে ব্যাংক ঋণের সুদের হার একক সংখ্যায় আনতে হবে। বলেছি এক বা দুই মাসের মধ্যে সব ব্যাংককে নয় শতাংশ হারে সুদ নির্ধারণ করতে হবে।’এর আগে ব্যাংক ঋণে সুদের হার একক সংখ্যায় নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েও দুই-একটি ব্যাংক ছাড়া কেউ তা বাস্তবায়ন করেনি।এদিকে সোমবারের বৈঠকে বেসরকারি ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের ডাকা হলেও তারা অংশ নেননি। কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নীতিমালার ফলে অনেক রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বন্ধ ও অচল মিল-কারখানা সুদ মওকুফ সুবিধা পেয়েছে। ফলে ওই সব প্রতিষ্ঠানের অবশিষ্ট অনাদায়ী শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় সহজ হয়েছে।বৈঠকে বলা হয়, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর খেলাপি গ্রাহকের তথ্য নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করতে পারছে। ফলে এক ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছেন না।বৈঠকে জানানো হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত পোশাক শিল্পের ২৭৯টি এবং নন-টেক্সটাইল শিল্প খাতের ৪১১টি প্রতিষ্ঠানকে রুগ্ন শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ পর্যন্ত মোট ৪২৬টি রুগ্ন শিল্পের (নন-টেক্সটাইল) জন্য সুদ ভর্তুকিসহ নমনীয় পরিশোধ সূচিতে ঋণ হিসাব অবসায়নে (Liquidation) বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এ প্যাকেজের আওতায় অধিকাংশ ঋণ হিসাব নিষ্পত্তি করা হয়েছে।কমিটির সভাপতি আ. স. ম. ফিরোজের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণ চন্দ চন্দ্র, মো. মাহবুবউল আলম হানিফ, মির্জা আজম এবং মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম অংশ নেন।