চোখের জলে বিদায় নুসরাতকে

image_titleবৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে উপজেলার সাবের মোহাম্মদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা হয়।
নুসরাতের বাবা মাওলানা এ কে এম মুসা জানাজায় ইমামতি করেন।
জানাজায় সোনাগাজী ছাড়াও আশপাশের জেলা উপজেলা থেকে অন্তত ২০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এদের মধ্যে ফেনীর প্রশাসনের ছোটো-বড়ো প্রায় সব পর্যায়ের কর্মচারী-কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি অংশ নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিকাল ৫টায় নুসরাতের মরদেহ উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামে পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় তার সহপাঠী-স্বজনসহ কয়েক হাজার নারী-পুরুষ এক নজর দেখার জন্য তার কফিনের কাছে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারির সঙ্গে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে আসে।
জানাজার জমায়েতে নুসরাতের বড়ো ভাই নোমান, ফেনীর পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সোনাগাজী পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাক সমর দাশসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।
সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত এ বছর আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।
ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে গত মার্চে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করে নুসরাতের পরিবার।
সেই মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষের অনুসারীরা গত শনিবার মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন।