বয়ফ্রেন্ড, পাংকু জামাইসহ ১০ সিনেমা যাচ্ছে ভারতে

image_title 
ভারতে রফতানির জন্য ১০টি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকে অনুমোদন দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এগুলো হচ্ছে ‘শাহেনশাহ’, ‘জান্নাত’, ‘ফিফটি ফিফটি লাভ’, ‘পাংকু জামাই’, ‘দাগ হৃদয়ে’, ‘বয়ফ্রেন্ড’, ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’, ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’, ‘ভালো থেকো’ ও ‘ধূসর কুয়াশা’। একই সঙ্গে ‘থাইকারী’ নামক ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
তথ্য মন্ত্রণালয় এসব সিনেমা রফতানির অনুমতি দিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ১ এপ্রিল তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (চলচ্চিত্র-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ ইকরামুল হক সরকার স্বাক্ষরিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অ্যাকশনকাট এন্টারটেইনমেন্ট এর আবেদনের আলোকে রফতানি নীতি ২০১৫-১৮ এর ৯ দশমিক ২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মো. সেলিম খানের প্রয়োজনা ও শামীম আহমেদ রনির পরিচালনায় বাংলা ভাষায় নির্মিত বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘শাহেনশাহ্’ ভারতে প্রদর্শনের জন্য রফতানির অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হয়েছে।
এ জন্য দুটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। শর্তগুলো হচ্ছে- আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রকের দফতরের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে রফতানি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ অনাপত্তি প্রদান করা হলো।
একই দিন একই শর্তে অ্যাকশনকাট এন্টারটেইনমেন্টের আবেদনের আলোকে পিংকি আক্তারের প্রযোজনা ও উত্তম আকাশের পরিচালনায় ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’; সেলিমা বেগমের প্রযোজনা ও উত্তম আকাশের পরিচালনায় নির্মিত ‘বয়ফ্রেন্ড’; এবং মো. মোজাম্মেল হক সরকারের প্রযোজনা ও আব্দুল মান্নানের পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্র ‘পাংকু জামাই’ নামক ছবিকে রফতানির ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।
এছাড়া মেসার্স ইন উইন এন্টারপ্রাইজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এস এম সেলিম ভূঞার প্রযোজনা ও মুস্তাফিজুর রহমান মানিকের পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্র ‘জান্নাত’; মুহাম্মদ মসিহ উল্লাহরে (মামুন) প্রযোজনা ও এ. আর. মুকুল নেত্রবাদীর পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ফিফটি ফিফটি লাভ’; মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’; মেসার্স এন ইউ আহাম্মদ ট্রেডার্সের আবেদনের প্রেক্ষিতে কামাল আহমেদের প্রযোজনা ও তারেক শিকদারের পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দাগ হ্রদয়ে’; হিসাম মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশনের আবেদনের আলোকে মো. মাহবুবুর রশিদের প্রযোজনা ও উত্তম আকাশের পরিচালনায় চলচ্চিত্র ‘ধূসর কুয়াশা’ এবং মেসার্স এন. ইউ আহমেদ ট্রেডার্সের আবেদনের আলোকে জাকির হোসেন রাজুর প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ভালো থেকো’ নামক ছবি রফতানির জন্য ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে মেসার্স এন. ইউ আহমেদ ট্রেডার্সের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ এর ২৬(৪৯)(গ) অনুচ্ছেদ মোতাবেক আঙ্কিত আদৃত্য পরিচালিত ভারতীয় ‘থাইকারী’ নামক চলচ্চিত্রটিকে আমদানির অনুমোদন দেয়া হলো। এজন্য এন. ইউ আহমেদ ট্রেডার্সকে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে- আমদানিকৃত চলচ্চিত্র বাংলাদেশে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সেন্সর আইনসহ অন্যান্য প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করা হবে। আমদানিকারক ও রফতানিকারক এ সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের কপি আমদানিকারক মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদক্রমে এ অনাপত্তি কার্যকর হবে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আমদানি-রফতানি নীতিমালায় কলকাতা থেকে একটি ছবি আমদানির জন্য আগে সেখানে একটি ছবি রফতানি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে চলচ্চিত্র রফতানির অনুমোদন নিতে হয়।
মূলত কলকাতা থেকে বাংলা ছবি আনার জন্য বেশকিছু দিন থেকে বাংলাদেশি ছবি ভারতে রফতানির জন্য আবেদন করে আসছিল চলচ্চিত্র আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।

অবশেষে সে অনুমোদন পাওয়া গেল।
এমইউএইচ/জেএইচ/এমএস