পানি সংকটের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

image_titleহিমালয় অঞ্চলের অন্তত ৪২ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি হওয়ার অশনিসংকেত দিয়েছেন গবেষকরা। বিষয়টি উদ্বেগজনক।...হিমালয় অঞ্চলের অন্তত ৪২ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি হওয়ার অশনিসংকেত দিয়েছেন গবেষকরা। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

সম্প্রতি ‘ওয়াটার পলিসি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের গবেষক চতুষ্টয়ের ‘আরবানাইজেশন অ্যান্ড ওয়াটার ইনসিকিউরিটি ইন দ্য হিন্দুকুশ হিমালয়া : ইনসাইটস ফ্রম বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, নেপাল অ্যান্ড পাকিস্তান’ শিরোনামের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এ অঞ্চলের পানির উৎসগুলোর অতি ব্যবহার ঘটছে, যা এখানকার অধিবাসীদের চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।উল্লেখ্য, হিমালয়কেন্দ্রিক আটটি দেশের একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে এ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব যে বাংলাদেশেও পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ অঞ্চলে বরফ ও হিমবাহনির্ভর পানির এ দুই উৎস চাহিদা অনুযায়ী পানির জোগান দিতে পারছে না এবং এ কারণে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে।সমস্যাটির সুপরিকল্পিত সমাধান না হলে পুরো হিমালয়ভুক্ত অঞ্চল তথা এদেশের মানুষ চরম পানি সংকটে নিপতিত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। গবেষকরা মনে করছেন, এ অবস্থায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে পর্বতের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নগরকেন্দ্রের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যা ইতিমধ্যে নেপাল সম্পন্ন করেছে।কিছুদিন আগে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ‘আরবানাইজেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল- বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলোয় ভিড় জমাচ্ছে।রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে অপরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা ও পরিসর বিস্তৃতির ফলে জীবনযাপনের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান যেমন জমি, পানি ও বাতাস মাত্রাতিরিক্ত দূষিত হয়ে পড়েছে।এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে বৈষম্য হ্রাসসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আন্তরিক হতে হবে।বস্তুত আধুনিক জীবনাচারে অভ্যস্ত হয়ে আমরা দ্রুত দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করছি। বিশেষ করে প্রাকৃতিক বনভূমি উজাড় করে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করা হচ্ছে। এর ফলে নিরাপদ পানির উৎস সংকুচিত হচ্ছে এবং সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।বলার অপেক্ষা রাখে না, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার দুর্বলতায় শুধু স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন রোগ ও উপসর্গের প্রকোপই বৃদ্ধি পায় না; এর ফলে মানুষের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বিনষ্ট হয়। এ প্রেক্ষাপটে নিরাপদ পানি প্রাপ্যতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।এটি নিশ্চিত করা গেলে আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।।