নির্বাচনের অনিয়মের কথা তুলে ধরতেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি নুর


নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের কথাগুলো তুলে ধরার জন্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন নুরুল হক নুর।
দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া আজ এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নুর বলেছেন, নির্বাচনের অনিয়মের কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেটের কাছে তুলে ধরতেই ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
আজ (২৩ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে ডাকসুর কার্যকরী সভার মাধ্যমে দায়িত্বগ্রহণ করেন ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতারা। ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ভিপি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছাড়া অন্য সকল পদে ছাত্রলীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।


নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি প্যানেলের ভোট বর্জন এবং পুনর্নির্বাচনের দাবির মধ্যেই পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ওই সভা হয়।
সভা শেষে সাক্ষাৎকারে নুরুল বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পরে ডাকসু নির্বাচন ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সবচেয়ে খুশি হতাম এই নির্বাচন যদি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার মতো একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হতো। সেরকম নির্বাচন হয়নি। একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে। সেই জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা পুনর্নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে এবং আমিও তাদের সেই দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করেছি। কারণ আমরাও মনে করি জাতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থেকে এরকম একটি কলঙ্কিত নির্বাচন চায়নি।
আমি কেনো দায়িত্ব নিলাম এই প্রশ্ন অনেকেরই। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সিনেট সিন্ডিকেটসহ যে জায়গায় আমার সুযোগ আছে সেই জায়গায় নির্বাচনের অনিয়মের কথা তুলে ধরতে চাই। শিক্ষার্থীরা পুনরায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়।
নুরুল বলেন, ২৮ বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অপরাজনীতির বিকাশ ঘটেছে। আমরা দেখি যে, ছাত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্যকে কেন্দ্র করে মারামারি, খুনোখুনির মতো ঘটনা ঘটে। আমরা আরও দেখি যে, হলগুলোতে মেধারভিত্তিতে সিট নয় বরং রাজনৈতিক কৃপায় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট দেওয়া হয়।
সেই জায়গা থেকে আমি আজকের আলোচনায় বলেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণরুম, গেস্টরুম, রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট দেওয়া, এসব অপসংস্কৃতি দূর করতে হবে এবং পুনর্নির্বাচনসহ শিক্ষার্থীদের যে যৌক্তিক দাবি-দাওয়া রয়েছে সেগুলো মেনে নিতে হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন করে ডাকসুর নেতৃত্বে উঠে আসা নুর আরও বলেন, সার্বিকভাবে আমাকে যদি বলতে বলেন তাহলে আমি বলবো যে, আমি বিমর্ষচিত্তে আনন্দিত। আনন্দের চেয়ে দুঃখ রয়েছে।

কারণ একদিকে আমি চেয়ারে বসে দায়িত্ব নিচ্ছি আর অন্যদিকে আমার ভাই-বোনেরা আন্দোলন করছে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে। কারণ এই নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন ছিলো।