চীনে বাসে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৬ পর্যটক

image_titleরাসায়নিক কারখানায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পর চীনে এবার অগ্নিকা-ের শিকার হয়েছে একটি পর্যটকবাহী বাস। এ ঘটনায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মধ্য চীনের হেনান প্রদেশ থেকে বাসটি আসছিল।

পরে চেঞ্জ শহরের হানসু কাউন্টির রাস্তায় আসার পরই ৫৯ সিটের এ গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। সে সময় গাড়িটিতে ৫৩ জন যাত্রী, দুজন ড্রাইভার ও একজন টুরিস্ট গাইড ছিলেন। এতে ২৬ জনের প্রাণহানীর পাশাপাশি আরো ৩০ জন আহত হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে কারণে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।দুর্ঘটনার ব্যাপারে এখনো পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। তবে স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানায়, পর্যটকবাহী এ বাসটির পিছন দিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কিন্তু তা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, যাত্রীরা সরে বা লাফ দিয়ে সরে যাওয়ারও সময় পায়নি।এ ঘটনায় গাড়িটির দুজন ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে এবং এ দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট আরো পড়ুন : চীনে রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ৪৭সিনহুয়া, ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০চীনের পূর্বাঞ্চলে একটি রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। জিয়াংসু প্রদেশের ইয়ানচেং নগরীর চেনজিয়াগাং শিল্পাঞ্চলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে ‘তিয়ানজিয়াই কেমিক্যাল কোম্পানি’-তে শাক্তিশালী ওই বিস্ফোরণের পর আগুন আশপাশের কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তার ধাক্কা ওই এলাকায় ২ দশমিক ২ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত কারখানায় কীটনাশক ও সার উৎপাদন হতো বলে জানায় বিবিসি। প্রায় ১২ ঘণ্টা চেষ্টার পর শুক্রবার রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় আহত ৬৪০ জনকে ১৬টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং ৫৪ জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ধাক্কায় আশপাশের কয়েকটি ভবনের ছাদ ও দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে। কাছেই একটি কিন্ডারগার্টেনের কয়েকটি শিশু আহত হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারখানাটিতে ৩০টির বেশি জৈব রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরি করা হতো, যেগুলোর বেশির ভাগই অত্যন্ত দাহ্য ছিল। অনিরাপদ কর্ম পরিবেশের জন্য কারখানাটিকে অতীতে কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছিল।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে বেশ কয়েকটি রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে; যা জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। গত নভেম্বরে উত্তরের হেবেই প্রদেশে একটি রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত ২২ জন নিহত হয়। তার আগে জুলাইয়ে সিচুয়ান প্রদেশে একটি কারখানায় বিস্ফোরণ ১৯ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়। তিয়ানজিনে ২০১৫ সালে একটি রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণে ১৬৫ জন মারা যায়, আহত হয় সহস্রাধিক মানুষ।।