ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

image_titleফেসবুকের ‘সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার ব্যবস্থা’ (লাইভ স্ট্রিমিং) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে হামলার সময় হামলাকারী তা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করার পর এ ব্যাপারে তৎপর হয়েছেন তিনি।
গত ১৫ মার্চ (শুক্রবার) নিউ জিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন নিহত ও অপর ৫০ জন আহত হয়। ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেনটন ট্যারান্ট নামে স্বঘোষিত এক শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী হামলার দৃশ্য সরাসরি ফেসবুকে সম্প্রচার করে।

ওই ভিডিওতে তাকে নিজের বন্দুক দিয়ে নির্বিচারে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়ে। নৃশংস ওই ভিডিওটি শেয়ার না করতে তখনই সবাইকে অনুরোধ জানাতে থাকে নিউ জিল্যান্ড পুলিশ। সেটি সরাতে তৎপর হয় তারা।
রবিবার (১৬ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে জাসিন্ডা আরডার্ন জানান, তিনি ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ ওই সন্ত্রাসী হামলার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো সরাতে কিংবা সরানোর জন্য বলতে আমরা যতটুকু সম্ভব তা করেছি। তবে যেসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভিডিওগুলো ছড়িয়েছে শেষ পর্যন্ত তাদেরই দায় এগুলো সরানোর। আমি মনে করি তাদেরকে আরও কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’
ফেসবুকের সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া উচিত কিনা সে প্রশ্নের জবাবে জাসিন্ডা বলেন, ‘শেরিল স্যান্ডবার্গের (ফেসবুক সিইও) সঙ্গে আমি যোগাযোগ করেছি। তার সঙ্গে আমার সরাসরি কথা না হলেও আলোচনার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি, নিউ জিল্যান্ডে যা ঘটেছে সে ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন।’
এদিকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে,তারা প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১৫ লাখ ভিডিও সরানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্বজুড়ে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় আমরা হামলার ১৫ লাখ ভিডিও সরিয়ে নিয়েছি। এর মধ্যে ১২ লাখ ভিডিও আপলোড হওয়ার সময়ই ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে,হামলায় হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ গ্রাফিক কনটেন্ট না দেখিয়ে ভিডিওটির যেসব সম্পাদিত সংস্করণ (এডিটেড ভার্সন) প্রকাশ করা হয়েছিল সেগুলোও মুছে ফেলছে তারা।