মসজিদে হামলায় নিহত চার বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

image_titleনিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।...নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহত চারজন হলেন- ড. আবদুস সামাদ, হোসনে আরা পারভীন, জাকারিয়া ভূঁইয়া এবং ওমর ফারুক। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ড. আবদুস সামাদ ও সিলেটের গোলাপগঞ্জের হোসনে আরা পারভীনের নিহত হওয়ার খবর শুক্রবারই পাওয়া যায়।তবে নরসিংদীর পলাশের জাকারিয়া ভূঁইয়া ও নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ওমর ফারুকের নিহত হওয়ার খবর শনিবার পাওয়া যায়। এদিকে শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, এ হামলার ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দু’জন নিহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। এছাড়া এ ঘটনায় আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশে লাশ আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।ড. আবদুস সামাদক্রাইস্টচার্চে লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্বের একজন শিক্ষক ছিলেন ড. আবদুস সামাদ। এর আগে তিনি বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ে শিক্ষকতা করতেন।আল নূর মসজিদে তিনি মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন। তার বাড়ি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্লা গ্রামে।হোসনে আরা ফরিদসিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষিপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গাঁলহাটা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন হোসনে আরা ফরিদ। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। সেবছর বিয়ের পরই তিনি স্বামীর সাথে নিউজিল্যান্ডে চলে যান। এরপর থেকে সেখানেই থাকতেন।

স্বামী ফরিদউদ্দিন বেশ কয়েক বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন। এরপর থেকেই তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। হামলার সময় তারা দুজনেই আল-নুর মসজিদে ছিলেন।ডা. মোজাম্মেল হকডা. মোজাম্মেল হক ঢাকার নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। বাংলাদেশে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে বিডিএস পাস করেছেন। এরপর ডেন্টিস্ট্রির উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন।ওমর ফারুকসর্বশেষ জানা গেছে ওমর ফারুক নামে আর এক ব্যক্তির নাম। তার বাড়ি গাজীপুর এতটুকু তথ্যই পাওয়া গেছে।প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আরও বলেন, নিউজিল্যান্ডের সন্ত্রাসী ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। এরই মধ্যে দূতাবাসের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং ডেপুটি হাইকমিশনার তারেক ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছেছেন। নিউজিল্যান্ডের হাসপাতালে রোগীর ধারে কাছে যাওয়ার বিধান নেই। এ কারণে তাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।শাহরিয়ার আলম বলেন, আহতদের মধ্যে লিপি ও মুহতাসিফের অবস্থা সংকটাপন্ন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ হাসান রুবেল, মো. ওমর ফারুক ও শাহজাদা আক্তার। এছাড়া মোজাম্মেল হক, শাওন ও জাকারিয়া ভূঁইয়া নামে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বলেন, নিউজিল্যান্ড সরকার আহতদের চিকিৎসাসেবা দেবে। বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে সে দেশের সরকারকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে হাইকমিশন যোগাযোগ করেছে। তারা লাশ দেশে আনতে চাইলে সরকার সহযোগিতা করবে।তিনি বলেন, আমাদের ক্রিকেট টিমের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নিউজিল্যান্ড সরকারকে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট আয়োজনের সময় নিরাপত্তা বিষয়গুলোর জন্য কী কী বিষয় আলোচনা হয়, তা ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান আমাদের বলেছেন। তবে এ ঘটনার পর নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও সতর্ক হতে হবে। ঘটনার পরপরই হাইকমিশন থেকে নিউজিল্যান্ড সরকারকে বার্তা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।এ ব্যাপারে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুনগুলোও তারা পুনর্বিবেচনা করবেন। শাহরিয়ার আলম বলেন, আশা করি এ ঘটনার মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ড শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে সতর্ক হবে।।