তোমাদের বুলেট কখনোই কালিমা থেকে আমাদের দূরে সরাতে পারবে না

image_titleনিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদীর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৯ জনের শহীদ হয়েছেন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এমন ঘটনার পর হতাহতদের জন্য পুরো বিশ্ব জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সেই সঙ্গে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

এদিকে নিউজিল্যান্ডে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদী হামলায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার রুবেল হোসেন লিখেছেন :‘আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ সব কিছুর মালিক। এই মসজিদে আমিও নামাজ পড়ে এসেছি। এটা একটা পরিকল্পিত হামলা। মহান আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া আমাদের ক্রিকেটারদের রক্ষা করেছেন এত বড় একটা দুর্ঘটনা থেকে… যে সমস্ত মুসলমান ভাইয়েরা মারা গেছে আল্লাহ তাদেরকে জান্নাত নসিব করুন আমিন।’অন্য আরেকটি পোস্টে পেসার রুবেল হোসেন লিখেন : ‘ছবিতে জঙ্গী হামলার শিকার এক মুসলিম আঙ্গুল দিয়ে কালিমার সাক্ষ্য দিচ্ছেন। তোমাদের বুলেট কখনোই এই কালিমা থেকে আমাদের মুসলিমদের দূরে সরাতে পারবে না। মুখে উচ্চারণ করতে না পারলেও আঙুল উঁচিয়ে সাক্ষ্য দিয়ে যাবো। #InShaAllah’রুবেল আরো লিখেন: ‘মনে রাখবেন, সারা বিশ্বের মুসলমান ভয় করে একজনকে তিনি হলেন মহান আল্লাহ তার ভয়ে ভীত মুসলিম উম্মাহ। কোন সন্ত্রাসীর কাছে নয়’ আরো দেখুন : ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারীকেও কি মানসিক অসুস্থ বলা হবে : প্রশ্ন হাফিজেরনয়া দিগন্ত অনলাইন; ১৬ মার্চ ২০১৯, ১০:১৬পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ হাফিজ বলেছেন, নিউজিলান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে গত শুক্রবার যে ব্যক্তি নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছে তাকেও কি মানসিক অসুস্থ বলা হবে। নিজের টুইটারে হাফিজ এ প্রশ্ন করেন।এর আগে আরেক টুইটে তিনি এ হামলায় হতাহত ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি আরো লেখেন, সন্ত্রাসীদের কোনো সীমানা নেই। বৈশ্বিক এ সমস্যা সমাধানে আমাদের সবার একসাথে থাকা উচিত।গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে যে ধরনের হামলা হয়েছে, সাধারণত এ ধরনের হামলা চালায় উগ্র জাতীয়তাবাদী কিছু লোক। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই তাদেরকে মানসিক অসুস্থ বলে শাস্তি অনেকটাই কমিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এ ধরনের হামলার সাথে কোনো ধরনের মুসলিম সম্পৃক্ততা থাকলে পুরো বিষয়টিই অন্যভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

মূলত এ দৃষ্টিকোণ থেকেই হাফিজ এ প্রশ্ন তুলেছেন।আরো পড়ুন : মসজিদে হামলা : তামিমের সাথে কথা বললেন আফ্রিদিনয়া দিগন্ত অনলাইন, ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৫:৪০কথা ছিল, সংবাদ সম্মেলনটা শেষ করে জুমআ নামাজ আদায় করতে ঠিক দেড়টা নাগাদ পার্শ্ববর্তী আল নুর মসজিদে যাবেন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনটা দীর্ঘায়িত হয়েছিল বেলা ১টা ৪০ পর্যন্ত। হয়তো সেটাই রক্ষা করেছে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলকে।সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই জুমআ নামাজ পড়তে মসজিদে প্রবেশ করবেন, ঠিক সেই মুহূর্তে মসজিদের ভিতর থেকে মধ্য বয়সের এক নারী রক্তাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে এসে সতর্ক করে দেন তামিমদের। সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে তামিমরা নিরাপদে থাকলেও নামাজরত মুসল্লিদের ওপর চালানো হামলায় মসজিদে বয়ে গেছে রক্তের বন্যা। মসজিদ আল নুর ও পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদে করা এ হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন।এ ঘটনায় নিন্দা ও শোকে মুহ্যমান সারা বিশ্ব। এর সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও জড়িত থাকায় ক্রিকেট বিশ্বের পরিচিতি মুখরাও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছেন সবার সামনে। বাদ যাননি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বুম বুম খ্যাত ড্যাশিং ব্যাটসম্যান শহীদ আফ্রিদিও।বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিনিয়র সদস্য তামিম ইকবালের সাথে বেশ ভালো বন্ধুত্বই রয়েছে আফ্রিদির। বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস এবং পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে একসাথেই খেলেছেন তারা। তাই তো ঘটনার পরপরই তামিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই তারকা। আর এক টুইট বার্তায় নিজেই একথা জানিয়েছেন আফ্রিদি।নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়া এক বার্তায় শহীদ আফ্রিদি লিখেছেন,‘ভয়াবহ দুর্ঘটনা ক্রাইস্টচার্চে। আমি সবসময়ই নিউজিল্যান্ডকে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ একটি দেশ হিসেবেই দেখেছি। সেখানে মানুষরাও খুব বন্ধুপরায়ণ। আমি তামিমের সঙ্গে কথা বলেছি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এবং স্টাফরা নিরাপদে আছে এটাই বড় পাওয়া। উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সারাবিশ্বের এক জোট হওয়া উচিৎ। ঘৃণা ছড়ানো বন্ধ করা উচিৎ। হামলায় নিহতদের জন্য দোয়া। আল্লাহ সহায় হন।’।