হামলার পর থমথমে ক্রাইস্টচার্চ, মসজিদ বন্ধ রাখার পরামর্শ

image_titleক্রাইস্টচার্চ শহরের অন্তত দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার পর দেশ জুড়ে সব মসজিদ একদিনের জন্য বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে নিউ জিল্যান্ড পুলিশ। এক সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটকের কথা জানানো হলেও সেখানে গোলাগুলি চলছে বলে দেশটির পুলিশ জানিয়েছে। হামলার পর সেখানে থমথমে পরিস্থিতি চলছে। পরবর্তী ঘোষণার আগ পর্যন্ত সেখানকার বাসিন্দাদের ঘরের দরজা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আলাদা এক ঘোষণায় পুলিশের পক্ষ থেকে দেশের সব মসজিদ আজকের জন্য বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা হয়। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক দীন এভিনিউতে আল নুর মসজিদ এবং লিনউডের আরেকটি মসজিদের কাছ থেকে গুলির শব্দ শোনা গেছে। হামলার পর পুলিশের তরফ থেকে বেশ কয়েক জন হতাহত হওয়ার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। এরইমধ্যে এক সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আটক করেছে পুলিশ। আর কোনও বন্দুকধারী পালিয়ে আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে অভিযান চলছে।
হামলার পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, ‘আজ দুপুরে আমরা খুবই মারাত্মক এবং হৃদয় বিদারক ধারাবাহিক ঘটনা সামাল দিচ্ছি। ...বন্দুকধারীরা এখনও সক্রিয়। তারা বেশ কয়েকজনকে হতাহত করেছে। দুটি ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অন্য কোনও এলাকায় হামলাকারীরা সক্রিয় রয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত নই। যারাই আজ নিউ জিল্যান্ডের কোনও মসজিদে যাওয়ার কথা চিন্তা করছেন তাদেরকে না যাওয়ার অনুরোধ করছি। আমাদের কাছ থেকে পরের কিছু শোনার আগ পর্যন্ত দরজা বন্ধ রাখুন’।
হামলার পর আশেপাশের স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের ক্যাথিড্রাল স্কয়ারে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি র‍্যালিতে অংশ নিতে কয়েক হাজার শিশু  জড়ো হওয়ার পর ওই জায়গাটি খালি করে ফেলা হয়েছে।
হামলার পর বন্ধ রাখা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চের মধ্যাঞ্চল।

সেখানকার বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ  দিয়ে সন্তানদের স্কুল থেকে না আনার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। শিক্ষক এবং কর্মকর্তারা স্কুল শিক্ষার্থীদের খেয়াল রাখবেন বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।
আলাদা এক ঘোষণায় দেশটির পুলিশের পক্ষ থেকে আজ নিউ জিল্যান্ডের সব মসজিদ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের ঘরের দরজা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।