নিউ জিল্যান্ডে মসজিদে হামলা, বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা নিরাপদ

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শহরের হাগলি পার্ক মুখী সড়ক দীন এভিনিউতে আল নুর মসজিদের কাছ থেকে বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে পুলিশের বরাত দিয়ে ঘটনাটিকে ‘মারাত্মক’ বলা হয়েছে। হামলার সময়ে শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে  ওই মসজিদে যাওয়ার পথে ছিলেন নিউ জিল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা।

হামলার পরই তারা ওই এলাকা ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা সবাই নিরাপদ আছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছে দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট। হামলার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা ভবনের অভ্যন্তরে বেশ কয়েক জন হতাহত হওয়ার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

হামলার পর আশেপাশের স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের ক্যাথিড্রাল স্কয়ারে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি র‍্যালিতে অংশ নিতে কয়েক হাজার শিশু  জড়ো হওয়ার পর ওই জায়গাটি খালি করে ফেলা হয়েছে।
টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নিউ জিল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা বর্তমানে ক্রাইস্টচার্চে অবস্থান করছেন। টুইটারে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে, হামলার ঘটনার পরই হাগলি পার্ক থেকে বাংলাদেশ দলের কয়েক ক্রিকেটারকে দ্রুত চলে যেতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্য মুশফিকুর রহিম ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন হামলার সময়ে খুবই কাছাকাছি ছিলেন তারা। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলা থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। আমরা খুবই ভাগ্যবান, সর্বশক্তিমান আমাদের রক্ষা করেছেন। আমরা খুবই কাছাকাছি ছিলাম আর আবারও এধরণের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন'।
তবে বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছেন, 'দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিরাপদে আছে। তাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সবাই বর্তমানে হোটেলে অবস্থান করছে।'
রেডিও নিউ জিল্যান্ডের খবরে বলা হয়েছে, আর নুর মসজিদে ৩০০ জুমার নামাজ পড়তে ৩০০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, অন্তত ২০টি গুলির শব্দ শুনেছেন তিনি। এসব গুলির শব্দ আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে ছোঁড়া বরে ধারণা করেছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিনউডের আরেকটি মসজিদ থেকেও গুলির শব্দ শোনার কথা জানানো হয়েছে। নিউ জিল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্তারিত জানাবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দ্রা আর্ডেন।