জাজের আজিজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

image_titleশুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আব্দুল আজিজসহ মামলার বাকি আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত ৩০ জানুয়ারি আজিজের ভাই ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পরে কাদের ও আজিজসহ ক্রিসেন্ট গ্রুপ সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি ১৩ জন ব্যাংক কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করে সংস্থাটি।এরপর থেকে আত্মগোপনে আছেন আলোচিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্রিসেন্ট গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি বিলের বিপরীতে জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের মধ্যে ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ দেশে ফেরত আসেনি। এর মধ্যে আবদুল আজিজের রিমেক্স ফুটওয়্যার  ৪৮১.২৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।মামলার পর আজিজের একাধিক মোবাইল নম্বরে ফোন করলে বন্ধ পাওয়া যায়; হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।তার অবর্তমানে জাজ মাল্টিমিডিয়ার দেখভাল করছেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও আলিমুল্লাহ খোকন। মাসখানেকের মধ্যে আব্দুল আজিজের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে আব্দুল আজিজ না থাকলেও জাজ মাল্টিমিডিয়ার কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলে দাবি করেন খোকন।তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অনেকে হয়ত ভয় পেয়েছেন যে জাজ বন্ধ হয়ে যাবে কি না; যাদের কাছ থেকে আমরা পয়সা পাব তারা দিচ্ছি দিব করেও দিচ্ছিল না। কিন্তু জাজ যেভাবে চলছিল ঠিক সেভাবেই চলছে। এখানে আজিজ নাই, কালকে আমি থাকব না। কিন্তু অফিস কখনোই বন্ধ হবে না। এই মামলা প্রতিষ্ঠানটির সুনামে খানিকটা প্রভাব ফেলছে বলেও স্বীকার করলেন তিনি। জাজ কিংবা চেয়ারম্যানের আলাদা ইমেজ আছে। হয়ত দশ ভাগ প্রভাব পড়ছে কিন্তু এটা খুব বেশি না বলে মনে করি আমি। সবচেয়ে বড়কথা হলো কোম্পানিটি আমরা সহজে চালিয়ে যেতে পারছি। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত জাজের হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র ডিজিটাল চলচ্চিত্রের যুগে প্রবেশ করে।

ঝকঝকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে শুরুর দিকে দর্শকদের প্রশংসা কুড়ালেও যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে তোপের মুখে পড়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। প্রেক্ষাগৃহগুলোতে এককভাবে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অভিযোগও আছে জাজের বিরুদ্ধে।খোকন জানিয়েছেন, লোকসানের মুখে পড়ে চলতি মাস থেকে সব প্রেক্ষাগৃহের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছে জাজ। জাজ মাল্টিমিডিয়া দেশের অধিকাংশ প্রেক্ষাগৃহে প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম ও সার্ভারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দিয়েছিল। সেগুলো চালানোর জন্য প্রত্যেক হলে নির্দিষ্ট মেশিনম্যানও থাকত। এর বিপরীতে টিকিটপ্রতি তিন টাকা করে পেত জাজ।কিন্তু লাভের মুখ না দেখা সেই বিনিয়োগ গুটিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে খোকন বলেন, আমরা ভর্তুকি দিয়ে চালিয়েছি কারণ আব্দুল আজিজ চলচ্চিত্রকে ভালোবাসেন। ভালোবাসেন বলেই লোকসান টেনে চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। হলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে আরো বেশি মনোযোগী হওয়ার কথা জানালেন তিনি। মাসুদ রানাসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নিয়ে আসছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।।