সাবেক ছাত্র নেতাদের নিয়ে মার্চ করে ঢাবিতে যাবেন দুদু

image_titleবৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনশনরতদের সমর্থন জানান ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দুদু।তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন যেটা হয়ে গেল এটা যদি নির্বাচন হয় তাহলে বাংলাদেশে আর সত্য বলে কিছু নাই। আমরা এক সময় ছাত্র ছিলাম, ডাকসু নির্বাচন করেছি। সেই নির্বাচন দেশবাসী-বিশ্ববাসী দেখেছে।

শুধু বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো নয়, ছাত্রলীগও ফলাফল ঘোষণার পরে দুপুর পর্যন্ত বলেছে, নির্বাচন ঠিক হয় নাই, নির্বাচন বাতিল করেন। এমন কোনো সংগঠন নেই যারা এই নির্বাচন বাতিল করার কথা বলে নাই। ২৮ বছর পর গত সোমবার অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদ ছাড়া বাকি ২৩টি পদে জয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের প্রার্থীরা।নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি করছে প্রগতিশীল ছাত্রঐক্যসহ বিভিন্ন জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এদিকেকোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূর ভিপি পদে জয়ী হওয়ায় ফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেছিল ছাত্রলীগও, যদিও পরে তারা এই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।তবে ওই নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্যানেলই এখনও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। নতুন করে ভোটের দাবিতে মঙ্গলবার রাত থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ডাকসু হল সংসদের কয়েকজন প্রার্থীও আছেন। আর রোকেয়া হল সংসদের পুননির্বাচন এবং প্রভোস্টের অপসারণের দাবিতে বুধবার রাত থেকে হলের ফটকে অনশনে বসেছেন পাঁচ শিক্ষার্থী।  শিক্ষার্থীদের এই দাবি আদায়ে সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তারা কর্মসূচিতে যাবেন জানিয়ে দুদু বলেন, আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছে। প্রয়োজনে ডাকসুর সাবেক ভিপি-জিএস, সাবেক ছাত্র নেতারা, সারা বাংলাদেশে যে যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতারা আছেন, সবাই আমরা মার্চ করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, কৈফিয়ত দিতে হবে আপনাকে, কেন এ রকম নির্বাচন করলেন? কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান নষ্ট করলেন? অবিলম্বে ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলব, তাদের দাবি মেনে নিন। আপনি মানবেন না কেন? খালেদার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিজাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী নবীন দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আলোচনা সভায় দুদু বলেন, লড়াই ও রক্ত দিয়েই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এটা যদি আপনারা মাথায় না নিতে পারেন তাহলে ভুল হয়ে যাবে। হাই কোর্ট- সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে কোনো লাভ হবে না। এরা যারা নিয়োগ দিয়েছেন তাদের স্বার্থ দেখছে। এগুলো একটু আপনাদের ভাবতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।এদিকে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকরা মানববন্ধন করেন। ড্যাবের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে এই কর্মসূচিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক গাজী আবদুল হক, অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, মোস্তাক রহিম স্বপন প্রমুখ চিকিৎসকরা বক্তব্য রাখেন।।