দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় হাসিনা-মোদীর

image_titleসোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই নেতার পক্ষ থেকে এই আশাবাদ জানানো হয়।
শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন দিল্লি থেকে এবং নরেন্দ্র মোদী দিল্লিতে তার কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।
২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয়ের মধ্য দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নরেন্দ্র মোদী আসছে এপ্রিলে পরবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছেন। আর গত বছরের শেষে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করেছেন শেখ হাসিনা।


 দুই নেতাই দুই দেশের সহযোগিতার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথা বলে এসেছেন সব সময়। দুই সরকারের কাজেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। 
ভিডিও কনফারেন্সে নরেন্দ্র মোদী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগামী পাঁচ বছরে আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা করছেন।
আর শেখ হাসিনা বলেন, বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে সু-প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। আর ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। 
ভারতীয় ঋণের (এলওসি) আওতায় দোতলা বাস, একতলা এসি ও নন-এসি বাস এবং ট্রাক আমদানি; ভারতীয় আর্থিক অনুদানে পাঁচ জেলায় (জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন; ভারতীয় অনুদানে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার স্থাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে এর সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠানে।
 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ওই ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করছি। দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল এবং এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা র নীতি অনুসরণ করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে কখনোই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় দেওয়া হবে না।

জবাব দিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী বক্তব্যের শুরুতে বাংলায় বলেন, আশা করি বাংলাদেশের সবাই ভালো আছেন।
উপস্থিত সবাই এ সময় করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীরের পুলওয়ামায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি আপনারা সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বলে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচনে সাহসের সাথে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও অভিনন্দন জানাই।
মোদী বলেন, বাংলাদেশের পাশে থাকা ভারতের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।… বিগত পাঁচ বছর ভারত-বাংলাদেশের যে সম্পর্ক ছিল, আগামী পাঁচ বছর তার আরও উন্নতি হবে বলে মনে করি।

বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক চিরজীবী হোক।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ভিডিও কনফারেন্স হচ্ছে মন্তব্য করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।  দুই দেশের জনগণ অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে এই উৎসব উপভোগ করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের বিজয় ঘোষণার পরপরই আমাকে এবং আমার দলকে অভিনন্দন জানানোর জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণ ও সরকারের অপরিসীম অবদানের কথা আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি এ দেশের উন্নয়নে ভারতীয় সহযোগিতার কথাও অনুষ্ঠানে বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, ভারতের সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশের যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে এবং আমাদের মহাসড়কগুলোর যানযট খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) এর কার্যক্রম বাংলাদেশে সম্প্রসারণ করায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। 
এর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার এবং স্বাস্থ্য ও কৃষি গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের গবেষকদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং তাতে তাদের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 
ভিডিও কনফারেন্সের দিল্লি প্রান্তে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। আর ঢাকায় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।