মনসুর সাহেব নিজেকেই ছোট করলেন ফখরুল

image_titleতার ভাষায় জনপ্রতিনিধিত্বহীন সংসদে যোগ দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সুলতান মনসুর জনগণের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন।শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ বিষয়ে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।তিনি বলেন, মনসুর সাহেব নিজেকে জনগণের সামনে অত্যন্ত ছোট করে ফেলেছেন, ক্ষুদ্র করে ফেলেছেন।… জনগণের প্রতিনিধি ছাড়া যে পার্লামেন্ট, সেই পার্লামেন্টে যোগ দিয়ে তিনি নিজেকে শুধু ক্ষুদ্রই করেননি, জনগণের সাথে প্রতারণাও করেছেন।

ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর এক সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। জরুরি অবস্থার সময় সংস্কারপন্থি হিসেবে দলে অপাঙক্তেয় হয়ে পড়াপর পর তিনি কামাল হোসেনের সঙ্গে ভেড়েন।আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গণফোরাম গঠনকারী কামাল হোসেন কয়েক বছর আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামে একটি ফোরাম গড়ে তোলেন। এবার নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার সময় গণফোরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া দুটোই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়।গত ৩০ ডিসেম্বর ওই নির্বাচনে মাত্র আটটি আসন পাওয়ার পর ঐক্যফ্রন্ট ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়। নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে।কিন্তু সেই বারণে কান না দিয়ে বৃহস্পতিবার স্পিকারের দপ্তরে গিয়ে এমপি হিসেবে শপথ নেন মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত সুলতান মনসুর, যিনি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ওই আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।শপথ নেওয়ার পর সুলতান মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, জোটের শীর্ষ নেতা অর্থাৎ কামাল হোসেনকে জানিয়েই তিনি শপথ নিয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনে হাজির হয়ে তিনি বলেন, জোটগতভাবে অবস্থান যাই হোক, বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হিসেবে তার রাজনৈতিক বিশ্বাস বদলায়নি।সাংবাদিকরা শুক্রবার এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি যে দল থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন গণফোরাম, তারা ইতোমধ্যে তাকে বহিষ্কার করেছেন, ঐক্যফ্রন্ট তাকে বহিষ্কার করেছে। সুলতান মনসুরের শপথগ্রহণ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা- এই প্রশ্নে জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি ঐক্যফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি নন। ঐক্যফ্রন্টে যারা আছেন নেতৃবর্গ, তারা সবাই একমত যে সুলতান মনসুর এই খারাপ কাজটি করেছেন, গর্হিত কাজ করেছেন। এজন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।  খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের সঙ্গে বিএনপির আলোচনার গুঞ্জন নিয়েও মির্জা ফখরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা।উত্তরে তিনি বলেন, এ ধরনের কথা-বার্তার চিন্তাভাবনাগুলো শুধুই গুজব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে এই ধরনের গুজব ছাড়ানো হচ্ছে।

বিএনপির সংসদে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, এটা তো সিদ্ধান্ত হয়েই গেছে। আমরা তো বলেই দিয়েছি সংসদে না যাওয়ার বিষয়টি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মানববন্ধনে যোগ দেন বিএনপি মহাসচিব।।