ভরসা যখন শুকনা খাবার

image_title

হঠাৎ করেই দেখা দিচ্ছে গ্যাসের সমস্যা। অনেকের কাছে তখন বাইরের খাবারই ভরসা। যেকোনো কারণে হোক, বাড়িতে মজুত রাখা ভালো শুকনা খাবার। এই খাবার সংরক্ষণেরও রয়েছে সঠিক পদ্ধতি।

সারা দিন যেহেতু স্বাভাবিক খাবার খাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন হয়, তাই পুষ্টিগুণের কথাও চিন্তা করতে হবে।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া বলেন, ‘আমরা সব সময় যে ধরনের খাবার খাই, তার পরিবর্তন হলে অবশ্যই ফাইবার বেশি আছে এমন শুকনা খাবার খেতে হবে। এ ছাড়া খাবারে শর্করা বেশি থাকলে সারা দিন শক্তি পাওয়া যায়। শুকনা খাবারের মধ্যে ওটস, কর্নফ্লেক্স, দেশি খাবার চিড়া, মুড়ি, খই, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, শুকনা ফল যেমন খুরমা, খেজুর, কিশমিশ, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি দেওয়া বা ছাড়া বিস্কুট, নিমকি, পেটিস ইত্যাদি বেশ ভালো।

ওটস বা কর্নফ্লেক্স বেশ ভালো একটি শুকনা খাবার। এটি থেকে শর্করা, অল্প প্রোটিন ও কিছু খনিজ ভিটামিন পাওয়া যায়। এই খাবার শুধু গরম পানিতে বা দুধে ভিজিয়েও খাওয়া যায়। সঙ্গে দিতে পারেন কিছু শুকনা ফল। এতে খেতেও মজা লাগবে।

এ ছাড়া খই, মুড়ি দুধে ভিজিয়ে খেলে আপনার শর্করার চাহিদা পূরণ হবে। এটি সহজে হজমও হয় বলে বেশ উপকারী।

লাচ্ছা সেমাইও কিন্তু ভালো শুকনা খাবার। গরম দুধে ভিজিয়ে রেখে সহজেই খাওয়া যায় এই খাবার। এতে দুধের প্রোটিন, ক্যালসিয়ামসহ অনেক খাদ্যগুণ পাওয়া যাবে।

কেনা রুটি ফলের সঙ্গে ছোট টুকরা করে মিশিয়ে নিতে পারেন। সঙ্গে দিতে পারেন পিনাট (বাদাম) বাটার।

সালাদের মতো করে খাওয়া যায়। এ ধরনের খাবার পেটও ভরায়, আবার শক্তিও দেয়।

সংরক্ষণ

l যেকোনো শুকনা খাবারই তিন-চার মাসের মধ্যে শেষ করে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন রীনাত ফওজিয়া। তিনি জানালেন—

l শুকনা খাবার টিন বা কাচের পাত্রে রাখা উচিত।

l খাবার রাখার আগে পাত্রটি খুব ভালো করে রোদে শুকিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এতে করে সেই পাত্রের জীবাণু মরে যাবে।

l পাত্রের মুখ সব সময় খুব শক্ত করে আটকাতে হবে। তা না হলে খাবার বাতাসে নষ্ট হয়ে যাবে।

l শুকনা খাবার কিশমিশ, বাদাম, খুরমা ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন।

l শুকনা খাবার ফ্রিজে একটু ভিন্ন করেই রাখুন। এতে এর স্বাদ ও ঘ্রাণ ভালো থাকবে।

l মুড়ি, চিড়া, খই, নিমকি ও পেটিস জাতীয় খাবার কাচের পাত্রে শক্ত করে আটকে রাখুন। '