ত্বক উপযোগী মাস্ক

এখন মাস্ক নামটা কানে গেলেই করোনাভাইরাস আর নাক-মুখ ঢাকার মাস্কের ছবি চোখের সামনে ভাসে। তবে ত্বক পরিচর্যার জন্যও যে মাস্ক রয়েছে সেটার কথা আশাকরি কেউ ভুলে যাননি।বাসার বাইরে গেলে ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে তেমন মাস্ক ব্যবহার করা উচিত তেমনি ঘরে থেকে ত্বক মলিন, ফ্যাকাশে দেখালে প্রাকৃতিক উপদান দিয়ে তৈরি মাস্ক ব্যবহার করে মুখের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা যায়।রূপচর্চা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে ভিন্ন ভিন্ন ত্বকের যত্নে ভিন্ন ভিন্ন মাস্ক তৈরির উপায় সম্পর্কে জানান হল।

 ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্যব্রনপ্রবণ ত্বক নিয়ন্ত্রণ করতে হয় বেশ কৌশলে। কারণ কোন উপাদান যে ত্বক বিরুদ্ধ আচরণ করবে তা আগে থেকে বোঝা যায় না। তাই যে কোনো পণ্য ব্যবহারে আগে প্যচ টেস্ট করে নেওয়া উচিত। এই প্যাকে এমন তিনটি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে যা প্রায় সব ধরনের ত্বকেই মানিয়ে যায়।উপকরণ: দুই টেবিল-চামচ দই, এক টেবিল-চামচ বেসন ও এক চা-চামচ মূলতানী মাটিপদ্ধতি: সব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পরিষ্কার মুখে মাস্ক ব্যবহার করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। মাস্ক শুকিয়ে এলে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দুবার এই মাস্ক ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।উপকারিতা: দই প্রদাহ ও ব্যাক্টেরিয়া রোধী উপাদান সমৃদ্ধ। বেসনে থাকা জিঙ্ক ত্বকের সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই মাস্ক ত্বকের রং উজ্জ্বল করে। মূলতানী মাটি ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নেয় এবং লোমকূপ উন্মুক্ত করে।  তৈলাক্ত ত্বকের জন্যতৈলাক্ত ত্বকে মাস্ক ব্যবহারে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা প্রাকৃতিক তেল শুষে না নেয়। এটা শুধু ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নিয়ে একটা সজীব অনুভূতি দেয়। ফেইস মাস্ক কেবল ত্বককে তেল থেকে বাঁচায় না বরং লোমকূপ উন্মুক্ত রেখে ব্রণ দূর করে। উপকরণ: দুই টেবিল-চামচ তাজা অ্যালো ভেরা জেল।

৫-৬ ফোঁটা লেবুর রস।পদ্ধতি: উপকরণগুলো মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে পরিষ্কার মুখ ও গলায় ব্যবহার করুন। মাস্ক শুকিয়ে টানটান অনুভব হলে তা পানি দিয়ে আলতো ঘষে ধুয়ে নিন।  সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করতে হবে। এই মাস্ক ব্যবহারে প্রথম কয়েক মিনিট সামান্য অস্বস্তি হতে পারে, পরে তা ঠিক হয়ে যাবে।উপকারিতা: ত্বক ভালো রাখার নানা রকমের গুণাগুণ আছে অ্যালো ভেরাতে। ত্বকের ব্যাক্টেরিয়া কমাতে ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও, এটা ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নিয়ে দেয় পরিষ্কার ত্বক। লেবুতে আছে প্রাকৃতক ভিটামিন সি ও অ্যাস্ট্রিনজান্ট উপাদান যা, ব্রণের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং উজ্জ্বল ত্বক পেতে সহায়তা করে।শুষ্ক ত্বকের জন্যশুষ্ক ও পানিশূন্য ত্বকের নিয়মিত আর্দ্রতা রক্ষা এবং ঘরোয়া পরিচর্যার প্রয়োজন। শুষ্ক ত্বক দ্রুত পোড়াভাব দেখা দেয় তাই এর আর্দ্রতা নিশ্চিত করা জরুরি। ত্বক আর্দ্র রাখে এমন উপকরণ ব্যবহার করে শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যা করা উচিত।উপকরণ: এক টেবিল-চামচ টক দই। এক চা-চামচ ওটমিল। এক চা-চামচ মধু।পদ্ধতি: সব উপাদান একটা পাত্রে মিশিয়ে তা পরিষ্কার ত্বকে ব্যবহারে করুন। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের অবস্থা বুঝে এই মাস্ক কয়েকবার ব্যবহার করতে পারেন।উপকারিতা: দই কেবল ত্বকের জন্য আরামদায়ক নয় বরং এর ল্যাক্টিক অ্যাসিড ও প্রোবায়োটিক শুষ্ক ত্বককে মসৃণ করে এবং প্রদাহ কমায়। মধু সংক্রমণ কমায় এবং ত্বক আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে।আরও পড়ুনদূরে থাক ত্বকের মলিনভাব  মাস্ক পরার কারণে ত্বকের ক্ষতি সামলাতে  গ্রীষ্মে চুলের মাস্ক  ।