ক্রান্তিকালে সংকটে দেশি ফ্যাশন শিল্প

পহেলা বৈশাখ আর রোজার ঈদ। দুই উৎসব ধরে আয় ব্যয়ের হিসাব টানতে হয় দেশি ফ্যাশন শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের।নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পহেলা বৈশাখের আগেই মার্কেটসহ যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখনও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়াতে ঈদের বাজারেও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে এই বিষয় নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন দেশি ফ্যাশন ঘর বিবিয়ানা র কর্ণধার ও ডিজাইনার লিপি খন্দকার।তার কথায়, পহেলা বৈশাখের সমস্ত আয়োজন তো শেষ হয়েছিলই, পাশাপাশি ঈদের জন্য তৈরি পোশাকের কাজ প্রায় ষাট ভাগ শেষ। পহেলা বৈশাখের জন্য তৈরি করা পোশাকগুলো সারাদেশের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হয়ে গিয়েছিল। সেগুলো এখন পড়ে রয়েছে। জানিনা কত দিনে এই ক্ষতি আমরা পোষাতে পারবো। যদিও ঈদের আগে বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট খোলার কথা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সরকার থেকে। আবার বিভিন্ন দোকান মালিক সমিতিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মার্কেট খোলা হচ্ছে না। এরকম একটা অবস্থায় দেশি ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের তেমন কোনো উপকার হবে বলে মনে করছেন না এই ডিজাইনার।তার কথায়, মানুষের জানের মায়াটা আগে। আমরাও অবশ্যই জোর করে বলবো না ঈদের জন্য কাপড় কিনতে দোকানের আসেন। তাই আমার মনে হয় মার্কেট খুললেও তেমন কোনো ক্রেতা সমাগম হবে না। তাছাড়া আমাদের কর্মচারীদেরও নিরাপত্তার বিষয় আছে। আসলে আমরা পড়ে গেছি জীবন আগে নাকি জীবিকা আগে এরকম একটা দোটানা পরিস্থিতিতে। তিনি আরও বলেন, এই মাসটা আমরা কোনো মতো চালিয়ে নিতে পেরেছি। ঈদের মাস বলে কর্মচারীদের বেতনসহ উৎসবভাতাও দিয়েছি। তবে সামনের মাসে কী করবো সেটা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না।

আসলে বেশিরভাগ মানুষ আমাদের কাজটার সামনের চকচকের বিষয়টাকে দেখেন। ফ্যাশন শো, পোশাক প্রদর্শনীর মতো বিষয়গুলো সামনে থাকলেও এর পেছনে রয়েছে বহু মানুষের হাত। তাঁতী থেকে শুরু করে বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরিতে নিয়োজিত রয়েছে বহু মানুষ। আর এদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। আমরা ডিজাইন তৈরি করে তাদের দেই। সেই অনুসারে তারা আমাদের পোশাক বা পণ্য বানিয়ে সরবরাহ করেন। এখন সেগুলো যদি আমার বিক্রি করতে না পারি, তবে কীভাবে তাদের মূল্য পরিশোধ করবো? তাই বিষয়টা শুধু আমাদের নয়, এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত সকলেই রয়েছেন বিপদে। এই পরিস্থিতিতে অনলাইনে বিক্রির বিষয়ে লিপি খন্দকার বলেন, অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা আমরা চালু করেছি। তবে এখানেও রয়েছে বিপত্তি। অনেকেই বিদেশি কাপড়ের ব্যবসা করেন অনলাইনে। ভ্যাট ট্যাক্স ছাড়া সেসব পোশাক এদেশে যেভাবে চলে এসে অনলাইনে বিক্রি হয় সেটার খোঁজ তেমন কেউ রাখেন না। ফলে আমাদের দেশি পণ্যের তুলনায় সেগুলোর দাম কম হয়। আর ক্রেতারও সেদিকে ঝুঁকে পড়েন বেশি। আমি আশা করবো বিনা অনুমতিতে আনা বিদেশি পোশাক বিক্রি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।  তিনি আরও বলেন, অথচ আমরা কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রেখেই পোশাক তৈরি করি। একটা বিষয় এখানে অনেকেই ভুল করেন। সেটা হল, গণহারে বা কপি করে তৈরি করা পোশাক এক জিনিস আর ডিজাইন প্রোডাক্ট আরেক জিনিস। আমাদেরটা ডিজাইন প্রোডাক্ট। প্রতিটা পোশাকের জন্য প্রতিবছর আলাদা করে নকশা তৈরি করা হয়। সেই হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ডিজাইন প্রোডাক্টের তুলনায় আমাদের ডিজাইন প্রোডাক্টের মূল্য কিন্তু অনেক কম। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশকে ভালোবেশে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে এই ফ্যাশন উদ্যোক্তা বলেন, ঈদ ‍উপলক্ষ্যে যদি কারও পোশাক কেনার ইচ্ছে হয় তবে অবশ্যই দেশি পোশাক কিনবেন। দেশকে ভালোবেসে শুধু পোশাক নয়, অন্যান্য যেসব দেশীয় পণ্য আছে সেগুলো কিনেই ঈদ উদযাপন করুন।  ।