হার্ট অ্যাটাকের পর জীবনে যে পরিবর্তন জরুরি

image_titleতা করতে না পারার কারণে অনেকেই দ্বিতীয়বার এই গুরুতর শারীরিক সমস্যার শিকার হন।জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় সেই পরিবর্তনগুলো আনতে পারলে দ্বিতীয়বার এমনটা হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব নয়। আর আগেই থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখলে হয়ত কখনই হার্ট অ্যাটাক হত না।হার্ট অ্যাটাক পরবর্তী স্বাস্থ্যকর জীবন গড়তে করণীয় বিষয়গুলো জানানো হলো স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে।

তবে মনে রাখতে হবে শুরু করতে হবে ধীরে এবং বাড়াতে হবে ক্রমানুসারে।যত্নশীল খাদ্যাভ্যাস: দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাক হওয়া থেকে বাঁচতে হলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে দিনে কতটুকু ক্যালরি গ্রহণ করছেন। এরপর জানতে হবে সুস্থ থাকতে হলে কতটুকু ক্যালরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। প্রযুক্তির এই যুগে অসংখ্য উপায় আছে ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা প্রতিনিয়ত সামলে রাখার। যেসব খাবারে ক্যালরি বেশি কিন্তু পুষ্টি ‍উপাদান তুলনামূলক কম সেগুলো বাদ দিতে হবে। সেই সঙ্গে বিদায় জানাতে হবে স্যাচুরেইটেড ফ্যাট , ট্রান্স ফ্যাট, সোডিয়াম বা লবণ, লাল মাংস এবং চিনিকে। প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিতে পারলে খুবই ভালো, কারণ এগুলোতে প্রচুর সোডিয়াম ও চিনি থাকে।কর্মচঞ্চল থাকা: হৃদরোগের আক্রান্তদের শারীরিক পরিশ্রমের মধ্যে থাকা সুস্থ মানুষের থেকেও জরুরি। এতে ওই রোগীর হৃদযন্ত্র শক্তিশালী হবে, কমবে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা। সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা নিশ্চিত করতে হবে, যা মধ্যে ৭৫ মিনিট হতে হবে সহনীয় মাত্রার ভারি ব্যায়াম। অবশ্যই সকল শরীরচর্চা চিকিৎসকের পরামর্শ মাফিক হতে হবে। হাঁটা, দৌড়ানো, ঘরের কাজ, মৃদু স্ট্রেচিং সবই হতে পারে শরীরচর্চা।শরীর ও মনের সম্পর্ক: সুস্বাস্থ্য পাওয়ার পূর্বশর্ত হল মানসিকভাবে তার জন্য ইতিবাচক মনভাব থাকা। মন থেকে চাইতে হবে ভালো থাকতে। হার্ট অ্যাটাকের কথা ভেবেই যদি ভেঙে পড়েন, ভেবে নেন আপনাকে দিয়ে সম্ভব নয় তবে কখনই সম্ভব হবে না।

জীবনযাত্রায় আসা পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচকভাবে দেখতে পারলেই তা ধরে রাখতে পারবেন। চিকিৎসকের সঙ্গে শুধু শারীরিক অবস্থা নয়, নিজের মানসিক অবস্থা নিয়েও আলোচনা করতে হবে।ধূমপান একেবারে বন্ধ: ধূমপান হৃদযন্ত্রের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা সবারই জানা। হৃদযন্ত্র ও তাতে থাকা রক্তনালীর ক্ষতি করে, অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত শরীরের অন্যান্য অঙ্গে পৌঁছাতে বাধা দেয় ইত্যাদি অনেককিছু। তাই ধূমপান সবসময়ই বর্জনীয়, হার্ট অ্যাটাকের পর তো প্রশ্নই আসে না। ধূমপান আপনাকে ছাড়তেই হবে। এমনকি পরোক্ষ ধূমপান থেকেও দূরে থাকতে হবে।ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের ওজন যত বেশি হবে, হৃদযন্ত্রের কাজ ততই কঠিন হবে। এতে হৃদরোগের সম্ভাবনাও বাড়ে। সঙ্গে যদি উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে তবে ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে যাতে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা যায়। পাশাপাশি দরকার খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন।কোলেস্টেরল ও রক্তচাপের দিকে নজর রাখা: উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা রক্তনালীর ওপর অনেক চাপ ফেলে, সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে উল্লেখযোগ্য হারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে খাদ্যাভ্যাসে লবণের মাত্রা কমাতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে।সাহায্য নিতে লজ্জা নয়: হার্ট অ্যাটাকের পর সুস্থ জীবনে ফিরে আসা সহজ কথা নয়, আর তা একা করাও সম্ভব নয়। তাই পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে সাহায্য নিতে বা চাইতে কুন্ঠাবোধ করা উচিত নয়। এছাড়াও হার্ট অ্যাটাকের পর বেঁচে যাওয়া অন্যান্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কীভাবে তারা সুস্থ জীবনযাপন করছেন সে বিষয়ে জানা ও আলোচনাও করাও মানসিকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করবে।আরও পড়ুননারীর হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ  বুকে ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়  হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়   ।