বিনোদন যেন হয় স্বাস্থ্যকর

image_titleসারাদিনের ব্যস্ততায় যেখানে নাওয়া-খাওয়ার সময় ছিলনা, আজ হোম কোয়ারেন্টিন য়ে থেকে সময় কাটানোই যেন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরের কাজ, পরিবারকে সময় দেওয়া, ইনডোর স্পোর্টস ইত্যাদি নানান কাজে সময় কাটানোর উপায় থাকলেও অনেকেই হয়ত বেছে নিয়েছেন সিনেমা দেখা, গেইমস খেলা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদিকেই।এই সবগুলো করার জন্যই আপনাকে তাকিয়ে থাকতে হবে বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে, যার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে কমবেশি সবাই জানেন।তবে সময়ও তো কাটাতে হবে।

তাই স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল কীভাবে স্বাস্থ্যকর উপায়ে লম্বা সময় কাটানো যেতে পারে বৈদ্যুতিক পর্দার সামনে।  ২০-২০-২০ নিয়ম:  লম্বা সময় একটানা বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে তা থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি চোখের প্রচণ্ড ক্ষতি করবে, চোখে পানি আসতে পারে আবার অতিরিক্ত শুষ্কও হয়ে যেতে পারে।সেক্ষেত্রে ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন।এই নিয়মের বিস্তারিত হল যেকোনো বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে লম্বা সময় তাকিয়ে থাকার ক্ষেত্রে প্র্রতি ২০ মিনিট পর পর নুন্যতম ২০ মিটার দূরের কোনো বস্তুর দিকে কমপক্ষে ২০ মিনিট তাকিয়ে থাকতে হবে। টেলিভিশন কিংবা কম্পিউটারে সিনেমা দেখার সময় দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।শান্ত কিছু দেখা: কোন সিনেমা দেখা যায় এই চিন্তায় সবার আগেই হয়ত অ্যাকশন , থ্রিলার ইত্যাদি ধাঁচের সিনেমার কথাই প্রথমে মনে আসবে।তবে শান্ত ধাঁচের ড্রামা ,  প্রাকৃতিক দৃশ্য ইত্যাদি দেখা চোখের জন্য যেমন আরামদায়ক, তেমনি আপনার বুদ্ধি উন্নয়নেও উপকারী। শান্ত কিছু উপভোগ করার প্রভাবটা অনেকাংশে মিলে যায় ধ্যানের সঙ্গে যা মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কনটেক্সট কে সক্রিয় করে।মস্তিষ্কের এই অংশ চিন্তা করার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং কর্মশক্তিও যোগায়। তাই মারদাঙ্গা সিনেমা না দেখে প্রাকৃতিক প্রামাণ্যচিত্র দেখা ভালো হবে। অথবা হতে পারে রোমান্টিক ড্রামাধর্মী ছবি।খাওয়া: সিনেমা দেখা মানেই এটা-ওটা খাওয়া যার বেশিরভাগই মুখোরোচক অস্বাস্থ্যকর খাবার। যেহেতু আপনি ঘরে বন্দি তাই খাওয়া যেমন বাড়বে তেমনি শারীরিক পরিশ্রমও নেই বললেই চলে। দুটোর সম্মীলিত প্রভাবে ওজন বাড়াবে।করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে গিয়ে ডেকে আনবেন অন্যান্য ভয়ানক রোগ।তাই এসব স্ন্যাকস এড়িয়ে চলাই ভালো হবে।

বিশেষত, কোমল পানীয়। তিন বেলা খাওয়ার সময় সিনেমা দেখা কিংবা স্মার্টফোনে ডুবে থাকা পরিহার করতে হবে।ঘরের কাজ: সিনেমা দেখা অবশ্যই আনন্দদায়ক। তবে মনে রাখতে হবে পুরো সময়টা কাটাচ্ছেন শুয়ে বসে, শারীরিক পরিশ্রম তো হচ্ছেই না, সাধারণ নড়াচড়াও হচ্ছে না। লক ডাউন য়ের পুরো সময়টা এভাবে কাটলে ওজন যে বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই আনন্দের পাশাপাশি ঘরের কাজেও মনযোগ দিতে হবে।ঘর পরিষ্কার, রান্না, কাপড় ধোয়া, সন্তানকে পড়ানো- কাজের আসলে অভাব নেই। যদি আপনার আগ্রহ থাকে। মনে রাখবেন, সিনেমা কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে না। আবার কীভাবে শুয়ে কিংবা বসে থাকছেন সেদিকেও কিন্তু নজর দিতে হবে।আসল কথা হলঅবশ্যই লম্বা সময় সিনেমা দেখা, গেইমস খেলা স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। তবে ভারসাম্য বজায় রেখে করলে সেগুলো উপভোগ করার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যও বজায় রাখা সম্ভব। সময় ভাগ করে নিতে হবে, মাঝে অন্য কাজও করতে হবে।ছবি: রয়টার্স।আরও পড়ুনটেলিভিশন থেকে মানসিক চাপ  টেলিভিশনের আসক্তি কমাতে  যে ভুলে কমে যেতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা  ।