ভালোবাসা দিবসে অন্যরকম উপহার

image_titleএকই উপহারে একঘেয়েমি আসতেই পারে। তাই বিশেষ এই দিনে ভালোবাসাকে উদযাপন করতে আদর্শ উপহার কিনতে গিয়ে ভাবনার অন্ত থাকে না।ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের উপহারটি যদি প্রিয় মানুষটির জীবনের কোনো কাজকে সহজ করে দেওয়ার মতো, তবে সেটার থেকে আদর্শ উপহার আর কি-ই বা হতে পারে।চাকরিজীবী প্রিয়জনের জন্য জন্য সুন্দর একটি লাঞ্চ বক্স বা পানির বোতল যেমন প্রতিদিন তার কাজে আসবে তেমনি প্রতিবার ব্যবহারের সময় প্রিয় মানুষটির জন্য আপনার ভালোবাসার প্রকাশ হবে।

তবে এই ধরনের উপহারের চিন্তা ঘরে বসে করলে হয়ত কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন না। বরং বাজারে গিয়ে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেখতে গিয়েই হয়ত আদর্শ উপহারটি খুঁজে পাবেন।সমস্যা আছে এখানেও। শপিং সেন্টারগুলোতে থাকা উপহার সামগ্রীর দোকানগুলোতে গেলে পুতুল, কার্ড, শো-পিস ইত্যাদি গৎবাঁধা উপহারগুলোই চোখে পড়বে।ফলে অভিনব কোনো উপহার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আর উপহার কেনার জন্য অন্য কোনো দোকানে গিয়েও কুল কিনারা পাওয়া যায়না। কারণ আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি কি দেওয়া যায়।এই অবস্থায় বুদ্ধিমানের কাজ হবে পুরান ঢাকার চক বাজার। হয়ত ভাবছেন এই পাইকারি বাজারে উপহার কিনতে গিয়ে আরও বেশি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন কিনা? কিন্তু না, বরং এমন অনেক জিনিস পাবেন যার কথা হয়ত আপনার মাথায়ই আসেনি। কিংবা ভেবেছেন ওই ধরনের জিনিসের তো অনেক দাম।যেখানে যেতে হবেপুরান ঢাকা নিঃসন্দেহে একটি বিশাল বাজার। যেখানে সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায় সুলভ মূল্যে। তবে ঠিক কোন জায়গায় যেতে হবে সেটা আগে থেকেই জানতে হবে।উপহার সামগ্রী কেনার জন্য যেতে হবে চক বাজারের মিটফোর্ড রোডে। চকবাজার মডেল থানা থেকে মিটফোর্ড রোডের দিকে এগোলে প্রথম ঢুঁ মারতে পারেন মদিনা আশিক টাওয়ারে। ঘড়ি, চশমা, ব্যাগ, ঘর সাজানোর জিনিসপত্র, গয়না ইত্যাদি মিলবে এখানে।

এই মার্কেটের সবচাইতে বড় দোকানটি মন্টু ট্রেড পয়েন্ট। যেখানে পাওয়া মেয়েদের সাজগোজের বিভিন্ন অনুষঙ্গ, গয়না, ব্যাগ ইত্যাদি। পাইকারি দোকান হলেও তারা খুচরা বিক্রি করেন, যদি সম্ভব হয়।পুরান ঢাকা এলাকায় প্রায় সব দোকানেই নিয়ম হল নুন্যতম ছয়টি জিনিস নিতে হবে, পাইকারি দর পেতে হলে। তবে খুচরা বা পাইকারি যেভাবেই কেনা হোক না কেনো দামটা অন্যান্য মার্কেটের চাইতে কমই হবে।শুধুই ব্যাগের মার্কেট হল হাজি এম হোসেন প্লাজা। মানিব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, মেয়েদের বিভিন্ন আকার ও ধরনের ব্যাগ, ভ্রমণের ব্যাগ, ট্রলি অর্থাৎ যত ধরনের ব্যাগ থাকতে পারে সবই আছে এখানে। কাপড়, রেক্সিন, চামড়া ইত্যাদি বিভিন্ন উপকরণে তৈরি ব্যাগ পাওয়া যাবে। ছোট কাঁধের ব্যাগের দাম শুরু ১০০ টাকা থেকে। বড় কাঁধের ব্যাগ নুন্যতম দাম ৩০০ টাকা। মেয়েদের হাত ব্যাগের দাম শুরু হয় ৩০০ টাকা থেকে। বড় দোকানগুলোর মধ্যে আছে মোক্তার ব্যাগ হাউজ, পাপ্পু লেদার হাউজ ইত্যাদি।তবে উপহারের জন্য আদর্শ মার্কেট হবে বিসমিল্লাহ টাওয়ার। ইলেক্ট্রিক শেইভিং কিট , ম্যানিকিউর-পেইডকিউর কিট , বিভিন্ন আকারের পুতুল, টিফিন বক্স, পেন্সিল বক্স, পানির বোতল কি নেই এখানে।ব্যতিক্রমী উপহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কলাপ্সিবল হ্যাঙ্গার , যে কোনো কাচ পরিষ্কার করার বিশেষ যন্ত্র, রান্নার বিভিন্ন সরঞ্জাম, বিভিন্ন ডিআইওয়াই গৃহস্থালি সরঞ্জাম, ইনফ্লেটেইবল সোফা , ইনফ্লেটেইবল পিলো , ইনফ্লেটেইবল নেক পিলো , মাসাজ মেশিন , টেন্ট , ঘর সাজানোর প্লাস্টিক ফুল, বাসন ধোয়ার সিলিকন গ্লাভস , ফুলদানি, চাবির রিং, হাতে চালানো সেলাই যন্ত্র, রং বেরংয়ের বাতি, ইনডোর-আউটডোর স্পোর্টস এক্সেসরিজ ইত্যাদি অসংখ্য সামগ্রী পাওয়া যাবে এই মার্কেটে। উপহারের জন্য সুন্দর বাক্সও কিনতে পারবেন এখানে।ঘড়ি কিংবা চশমা কেনার জন্য চলে যেতে পারেন পাটুয়াটুলি। খুচরা-পাইকারী দুভাবেই যেকোনো জিনিস কিনতে পারবেন এখানে।শুধু ভালোবাসা দিবসের উপহারের জন্য নয়, গৃহস্থালি বিভিন্ন উপকরণ, খেলনা, শৌখিন আসবাব সবকিছুই পাওয়া যায় চকবাজারে। হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে যেতে হবে। ব্যক্তিগত যানবাহন না নিয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ এই এলাকায় পার্কিংয়ের ভালো ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। যারা নতুন সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের গৃহস্থালি কেনাকাটার জন্য চকবাজার হতে পারে স্বর্গ।।