করোনাভাইরাস: কোনটি গুজব, কোনটি ঠিক

image_titleনভেল করোনাভাইরাস বা ২০১৯-এনসিওভি নিয়ে মানুষের অমূলক ধারণাগুলো ভাঙতে প্রশ্নোত্তরের আকারে সঠিক তথ্যগুলো জানানো হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ওয়েবসাইটে।চীন থেকে আসা চিঠিপত্র ও প্যাকেট নেওয়া কি নিরাপদ?এর মধ্যে কোনো ঝুঁকি নেই। চীন থেকে আসা খাম, চিঠিপত্র বা মোড়কে আসা সামগ্রী ধরলে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগের অভিজ্ঞতায় বিজ্ঞানীরা দেখেন, খাম, চিঠি বা মোড়কের মত বস্তুর ওপর করোনাভাইরাস খুব বেশি সময় বাঁচতে পারে না।

পোষা প্রাণী থেকে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে?বাড়িতে কুকুর-বিড়াল পোষেন অনেকেই। এ ধরনের প্রাণীর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ গবেষকরা এখনও পাননি। তবে পোষাপ্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর অবশ্যই সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। তাতে পোষা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ই-কোলাই ও সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করা সহজ হবে। নিউমোনিয়ার টিকা নিলে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচা যাবে?না। নিউমোনিয়ার জন্য ব্যবহৃত নিউমোককাল ভ্যাকসিন বা হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জার বি (এইচআইবি) টাইপের টিকা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয় না। তবে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন অসুখ থেকে সুরক্ষায় জন্য টিকা নেওয়া জরুরি।নভেল করোনাভাইরাস একটি নতুন এবং আলাদা ধরনের ভাইরাস এবং এর জন্য নতুন করেই প্রতিষেধক তৈরি করতে হবে।লবণ পানি বা স্যালাইনে নিয়মিত নাক ধুলে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো যাবে?না, করোনাভাইরাসে এর কার্যকারিতার কোনো প্রমাণ বিশেষজ্ঞরা পাননি।স্যালাইন বা লবণ পানিতে বার বার  নাক ধুয়ে কারও কারও সর্দি থেকে দ্রুত মুক্তি মেলার খবর তারা শুনেছেন। কিন্তু এ পদ্ধতি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেবে- এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। মাউথওয়াশ দিয়ে কুলকুচি করলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানো যাবে?কিছু ব্র্যান্ডের মাউথওয়াশ মুখের লালায় থাকা রোগজীবাণু দূর করতে পারে। তবে তা কার্যকর থাকে খুব সামান্য সময়ের জন্য। আর মাউথওয়াশে কুলকুচি করে ২০১৯-এনসিওভির সংক্রমণ রোধ করা যাবে না। অন্তত তেমন কোনো প্রমাণ এখনও গবেষকরা পাননি।রসুন খেলে করোনাভাইরাস সেরে যাবে?রোগ-বালাই থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কিছু গুণ রসুনের মধ্যে আছে।

তবে রসুন খেয়ে নতুন এই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ ভালো হয়ে গেছেন- এমন প্রমাণ এখনও বিজ্ঞানীরা পাননি।  গায়ে তিলের তেল মাখলে সুরক্ষা মিলবে?একেবারেই না। তিলের তেল নতুন করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারে না।ব্লিচ, ক্লোরিন থেকে বানানো সংক্রমণ নিবারক, ৭৫ শতাংশ ইথানল, প্যারাসেটিক এসিড ও ক্লোরোফর্মের মত কিছু রাসায়নিক কোনো কিছুর গায়ে লেগে থাকা ২০১৯-এনসিওভি ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে।   তবে এসব রাসায়নিক গায়ে মেখে থাকলে কিংবা নাকের নিচে লাগালে নতুন করোনাভাইরাসের পরাস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, বরং তাতে ক্ষতিও হতে পারে।নতুন করোনাভাইরাস কী কেবল বয়স্কদের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ?যে কোনো বয়সী মানুষ নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে বয়স্ক ব্যক্তি ও যাদের অ্যাজমা, ডায়বেটিস, হৃদযন্ত্রের রোগ রয়েছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।ডব্লিউএইচও বলছে, নিরাপদ থাকার জন্য সব বয়সী মানুষকেই বারবার হাত ধুতে হবে এবং শ্বাসতন্ত্রকে নিরোগ রাখতে হবে।নতুন করোনাভাইরাসে অ্যান্টিবায়োটিক সুফল দেবে?না। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এর কোনো ভূমিকা নেই।২০১৯-এনসিওভি এক ধরনের ভাইরাস এবং এর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজে দেবে না।তবে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও ঘটতে পারে। এ ধরনের রোগীকে হাসপাতালে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কোনো বিশেষ ওষুধ কি আছে?নতুন করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ চিকিৎসকদের জানা নেই।আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, সাধারণভাবে সেগুলো সারানোর জন্যই চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অবস্থা গুরুতর হলে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা।কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে এখন গবেষণা চলছে। তবে সেগুলো তবে রোগীর ওপর ব্যবহারের আগে অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, সেই পদ্ধতি কতটা কার্যকর, কতটা নিরাপদ- সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা কী?নতুন করোনাভাইরাস আসলে ছড়ালো কীভাবে?করোনাভাইরাস: যা যা জানা দরকার  করোনাভাইরাস: নিরাপদ থাকতে যা করতে হবেকরোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ডব্লিউএইচও র পরামর্শকরোনাভাইরাস: যা পেয়েছেন উহানের চিকিৎসকরাকরোনাভাইরাসের ওষুধ এখনও আসেনি: ডব্লিউএইচও  ।