সকালের ছোট অভ্যাস যোগাবে সারাদিনের কর্মশক্তি

image_titleতবে এর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে দিনের শুরু থেকেই। থাকতে হবে জীবনের নানান ঝক্কি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা।এই মানসিকতা অর্জন করার মোক্ষম সময় হল সকালবেলা। সকালের প্রথম দুঘণ্টা কীভাবে ব্যয় করছেন তার উপর সারাদিনের সময়ানুবর্তীতা নির্ভর করে অনেকটাই।

তাই সকালে নিজেকে প্রস্তুত করা সম্পর্কে কিছু পন্থা জানানো হল স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে।বিছানা গোছানো: খুবই সামান্য এই ঘরের কাজকে অনেকেই অবহেলা করেন। তবে এরসঙ্গে মানসিক যোগাযোগ আছে। সকালে বিছানা গোছানোই আপনাকে সারাদিনের জন্য গোছানো শ্রেণির মানুষে পরিণত করবে। পাশাপাশি, দিনের প্রথম কাজটি ভালোভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে মিলবে মানসিক প্রশান্তিও। আর নিজের ঘরটাও দেখতে পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি মনে হবে।আর্দ্রতার যোগান: সকালে পানি পান করা প্রতিটি মানুষের অবশ্য কর্তব্য। শরীরের সকল কার্যাবলী ‍সুষ্ঠুভাবে অব্যাহত রাখার জন্য পানি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা সবাই জানি। সকালে বড় এক গ্লাস পানি পান করলে শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণ সহজ হয়। ঠাণ্ডা, ‍কুসুম গরম, লেবুর রস মিশিয়ে ইত্যাদি যেকোনো-ভাবেই পানি পান করতে পারেন, সবই উপকারী। যেভাবেই পান করুন না কেনো, প্রধান বিষয় হল পানি পান করতে হবে।শরীরচর্চা: সকালের রুটিনে শরীরচর্চা থাকাটাও কম জরুরি নয়। ব্যায়ামাগারে গিয়ে ভারী ব্যায়াম থেকে শুরু করে সাধারণ জগিং , যেটাই করেন না কেনো তাতে শরীর উপকৃত হবে। যেকোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করলেই আনন্দদায়ক অনুভুতি সৃষ্টিকারী হরমোন নিঃসৃত হয়। সকালবেলাতেই এই হরমোনে স্বাদ পেলে স্বভাবতই দিনটা কাটবে ফুরফুরে মেজাজে।করণীয় কাজের তালিকা: সারাদিনের কাজগুলোর তালিকা ও তাদের সুষ্ঠু সম্পাদনার পরিকল্পনাটা দিনের শুরুতেই করতে পারলে সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে সুবিধা হবে।

কোন কাজটা কতটুকু জরুরি সে অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজালে কোনো কাজ নিজের অজান্তে বাদ পড়ে যাবে না, সময় ব্যবস্থাপনাও হবে শক্তিশালী। পরিকল্পনা অক্ষরে অক্ষরে মানতে না পারলেও সমস্যা নেই। দিন শেষে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়াটাই মুখ্য বিষয়।মোবাইলে সময় নষ্ট নয়: প্রযুক্তির কল্যাণে পাওয়া স্মার্টফোন জীবনের বিভিন্ন দিক সহজ করে তুলেছে ঠিক। তবে সেই সঙ্গে সময় অপচয়ের একটি বড় কারণ হয়েও দাঁড়িয়েছে। তাই সকালে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বরং এসময় নিজেকে সময় দিন।কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি: ঘুম থেকে উঠেই কাজে বের হওয়ার জন্য তড়িঘড়ি শুরু হয় আমাদের। আর এই তাড়াহুড়োই আসলে ভুল হওয়ার ও সময় নষ্ট হওয়ার একটি বড় কারণ। কাজে বের হওয়ার আগে করণীয় কাজগুলোর তালিকা তৈরি করতে হবে। তারপর কোনটার পর কোন কাজটি করবেন তা গুছিয়ে নিতে হবে। আর সে অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। গোছানোর প্রক্রিয়াটা আগেই সেরে রাখতে পারলে কোনটা রেখে কোনটা করি এমন দ্বন্দ্বেও ভুগতে হবে না। আর সবগুলো করতে কতটুকু সময় লাগবে সেটাও জানতে পারবেন। সে অনুযায়ী ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়তে পারবেন।সকালের নাস্তা: সকালবেলা ঘর ছেড়ে খালি পেটে জীবন যুদ্ধে নামলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই সকালের নাস্তাটা হওয়া চাই স্বাস্থ্যকর। যে খাবার পছন্দ সেটাই খান। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে। অন্যথায় শরীরের আলসেমি বাড়বে।ছবি: রয়টার্স।আরও পড়ুনএকটি সুন্দর সকালের জন্যওজন কমাতে সকালের নাস্তাসকালের দুর্বলতা কাটানোর ঘরোয়া উপায়ঘুমের অভ্যাস ঠিক করতেসুস্বাস্থ্যের অভ্যাস  ।