লবণ পানিতে গার্গল করার উপকারিতা

image_titleসাধারণ সর্দি-গলাব্যথায় প্রথম অবস্থায় ওষুধ না খেয়ে লবণ-গরম পানির এই ঘরোয়া চিকিৎসা নেওয়া যেতেই পারে। এই পদ্ধতির কথা কম-বেশি সবাই জানেন। তবে কীভাবে কাজ করে সে ব্যাপারে হয়ত স্পষ্ট ধারণা নেই।স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল এই বিষয়ে বিস্তারিত।

যেভাবে কাজ করে: বহুকাল থেকেই চিকিৎসাক্ষেত্রে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। আধুনিক যুগে এসে বিজ্ঞানও এর কার্যকারিতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করলে তৈরি হয় অসমোসিস ইফেক্ট , যেখানে এই লবণ গলা থেকে তরল টেনে আনে। সেই তরলের টানে বেরিয়ে আসে মিউকাস , অস্বস্তি সৃষ্টিকারী অ্যালার্জেনস , ব্যাক্টেরিয়া এবং ছত্রাক। ফলে গলা পরিষ্কার হয়।পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ি থেকে ক্ষতিকর প্যাথোজেন বা রোগজনক শক্তি অপসারণ করে এবং তাদের বৃদ্ধি রোধ করে লবণ পানি।উপকারিতা: গলা ব্যথা দুর করতে, প্রদাহ, সর্দি এবং সাইনাসের সংক্রমণ সারাতে অত্যন্ত উপকারী লবণ পানি দিয়ে গার্গল করা। নিয়মিত ব্যবহারে মাড়ির রক্তক্ষরণ কমে। পাশাপাশি লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করার কারণে মুখগহ্বরের অম্ল প্রশমিত হয় এবং সেখানকার অম্ল-ক্ষারের মাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে জিনজিভাইটিস বা মাড়ি ফোলা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।পাশাপাশি মুখে ও গলায় ফাঙ্গাস-জনিত সংক্রমণ হওয়া প্রতিরোধ করে।মিশ্রণ তৈরির পদ্ধতি: একটি চা-চামচে অর্ধেক পরিমাণ লবণ নিয়ে তার চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ মিশিয়ে নিতে হবে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে। কুলি বা গার্গল করার সময় মাথা পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে মুখে পানিটুকু গলার নিয়ে গড়গড়া করতে হবে ৩০ সেকেন্ড। সঙ্গে সাধারণ কুলি তো করবেনই। একবারে পাঁচ থেকে সাতবার এভাবে কুলি করতে হবে।সর্দি লাগলে বা গলায় অস্বস্তি দেখা দিলে দিনে দুবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে উপকার মিলবে।

সতর্ক থাকতে হবে পানির তাপমাত্রা ও লবণের পরিমান নিয়ে। লবণ বেশি হলে মুখগহ্বর ও গলার ভেতরের টিস্যু শুষ্ক হয়ে যাবে।মনে রাখতে হবে, বেশি লবণ মেশালে গলা ও মুখ শুষ্ক করে ফেলবে। তখন অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে।আরও পড়ুনমুখের ভেতর শুষ্কভাব  ভিনিগারের নানান ব্যবহার  সর্দি-কাশি শুরুর আগেই থামাতে  যেভাবে বুঝবেন সাধারণ ঠাণ্ডা নয়  ঠাণ্ডা ও কফ নিরাময়  ।