ডেথ রিভিউ: ডেঙ্গুতে এক বছরে ১৬৪ মৃত্যু

image_titleডেঙ্গুতে এক বছরে এত মৃত্যুর নজির আর বাংলাদেশে নেই। এর আগে ২০০০ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬৬টি মৃত্যুর তথ্য এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এর মধ্যে ২৬৩টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ১৬৪ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুর কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

২০১৯ সাল জুড়ে সারাদেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আর এ বছরের শুরু থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ১১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।২০২০ সালে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য আসেনি বলে জানিয়েছেন রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের মৃত্যুগুলোই পর্যালোচনা করে ফলাফল দিয়েছেন তারা। একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব মৃত্যুর কারণ পর্যাচলোচনা করা হয়েছে। এ কারণে এটা প্রকাশ করতে সময় লেগেছে। ৯৯ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়নি বলে নিশ্চিত হয়েছে ডেথ রিভিউ কমিটি। ডেঙ্গু: ডেথ রিভিউ প্রক্রিয়া বাতিল করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞেরডেঙ্গুর বিস্তারের সঙ্গে বাড়ছে আতঙ্ক, কিন্তু কেন? ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার পর এ রোগে মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করতে গত বছর ডেথ রিভিউ কমিটি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আট সদস্যের এ কমিটির নেতৃত্বে আছেন সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা।এ কমিটির পর্যালোচনায় যাদের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, কেবল তাদের তথ্যই হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশ করছে।রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে।রাজধানীর ১২টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত এবং ২৯টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ১৯৬ জনের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এর মধ্যে ১৯৪টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে এসব হাসপাতাল ১২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে কমিটি।ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ২২ জন মারা গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ৪০ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে ২২ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে ডেথ রিভিউ কমিটি। এছাড়া ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে আসা ১৬ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে ১৪ জনের কারণ ডেঙ্গু বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঢাকার বাইরে থেকে পাঠানো ৭০ জনের মৃত্যুর মধ্যে ৬৯টি পর্যালোচনা করে ৩৭ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে ডেথ রিভিউ কমিটি। বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন মারা গেছে খুলনা বিভাগে। খুলনা বিভাগ থেকে ২৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য এসেছিল।ডেঙ্গু রোধে এখনই তৎপর হতে পরামর্শফিরে দেখা ২০১৯: মশা ভয়ঙ্কর ডেঙ্গু এখন সারা বছরের রোগশীতজনিত রোগে মৃত্যু ৫৪ জনেরচলতি শীত মওসুমে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। এর মধ্যে শীতজনিত নানা রোগে মারা গেছেন ৫৪ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার হিসাবে, গত ১ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৫৩ জন।তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, চর্মরোগ ও জ্বরসহ শীতজনিত অন্যান্য অসুস্থতায় ভুগেছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৬ জন।এখন পর্যন্ত শ্বাসতন্ত্রের রোগে ২০, ডায়রিয়ায় ৪ জন এবং অন্যান্য জটিলতায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা। দেশের ২৯৬টি উপজেলা থেকে পাঠানো তথ্যের ওপর এ প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।গত ২৪ ঘণ্টায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ৯০৭ জন, ডায়রিয়ায় ১ হাজার ৯১৭ জন এবং অন্যান্য রোগে ২ হাজার ৯৯৯ জন আক্রান্তের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করিয়েছে।এ বছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে দেশের ওপর দিয়ে। বুধবার শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টির কারণে শুক্রবার থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন।।