না ঘুমালে যা হয়

image_titleঅফিসের কাজ কিংবা পরীক্ষার আগের রাত পড়া শেষ করতে সারারাত জেগে থাকা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। যতই চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক পান করুন না কেনো একটা সময় পর ঘুম আসবেই। শরীর ব্যথা হবে, চোখের পাতা ভারী হয়ে বন্ধ হয়ে আসবে। মনযোগ থাকবে না কোনো কিছুতেই, মাথায় শুধু ঘুমের কথাই ঘুরবে।

আর এই সবকিছুই হবে শুধু একরাত না ঘুমালেই। তাহলে আর কখনই যদি না ঘুমান সেক্ষেত্রে কী হবে?যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) য়ের বিজ্ঞানীদেরও ব্যাপারটি ভাবিয়েছে। এই ব্যাপারটি জানতে কিছু অপরাধীদের ১১দিন জাগিয়ে রাখেন। ফলশ্রুতিতে তারা কিছু শারীরিক সমস্যায় ‍ভুগেছেন। তবে স্লিপ ডিপ্রাইভেইশন বিষয়ক গবেষণাগুলো তাদের সঙ্গে একমত নন। লম্বা সময় না ঘুমানো নিরাপদ, সিআইএ য়ের এমন দাবিকে সম্পুর্ণ নাকচ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে লম্বা সময় না ঘুমানোর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে জানানো হল।লম্বা সময় না ঘুমিয়ে থাকার কারণে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। ডেকে আনতে পারে মৃত্যুও। ঘুম বর্জনের একটি অন্যতম ভয়ানক দিক হল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমেই অকেজো হতে থাকা।পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রাও ক্রমেই কমতে থাকে। ফলাফল হয় হাইপোথারমিয়া । যেখানে শরীর যে হারে তাপ উৎপাদন করে যার চাইতে দ্রুত গতিতে তাপ হারাতে থাকে।না ঘুমানোর অন্যান্য সমস্যার মধ্যে আছে মাইগ্রেইন, অস্বাভাবিক শারীরিক ওজন, হৃদরোগ ইত্যাদি। যে কোনো ঘটনায় একজন মানুষের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে ঘুমের অভাবে।আরেকটি প্রশ্ন হল কি হবে তা জানার জন্য কারও পক্ষে কি লম্বা সময় জেগে থাকা সম্ভব? কিছু দুর্লভ শারীরিক সমস্যা রয়েছে যার কারণে মানুষ ঘুমাতে পারে না।

তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষ যতই জেগে থাকার চেষ্টা করুক না কেনো শরীর একটা সময় ভেঙে পড়বে এবং মানুষটি না চাইলেও ঘুমিয়ে পড়বেই।এমনকি শরীরকে জোর করে কোনোভাবে জাগিয়ে রাখা সম্ভব হলেও মস্তিষ্ক তার বিশ্রাম জোর করে আদায় করে নেবে। ফলে আপনি হয়ত জেগে থাকবেন কিন্তু আপনার মস্তিষ্কের কিছু অংশ কাজ করবে না।ছবি: রয়টার্স।আরও পড়ুনক্লান্ত তারপরও ঘুম আসে না? রয়েছে সমাধান  ঘুম না হলে  গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ  বেশি ঘুম ভালো না  ।