দেশকে তামাকমুক্ত করতে যা করা দরকার তা করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

image_titleবুধবার সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৯ এর বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসে এ কথা বলেন তিনি।হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে ধূমপায়ীদের সংখ্যা ৪০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় যা কিছু করা দরকার তা করবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন,  তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, আইন হয়েছে আর আইনের প্রয়োগও হচ্ছে।

তবে ই-সিগারেটের ব্যবহার  ধীরে ধীরে বাড়ছে   বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে এটা পরিপূর্ণভাবে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।  এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর গোচরে আনা হয়েছে । অনুষ্ঠানে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক: এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০১৯   শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। তথ্যমন্ত্রী এই গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন করেন।আত্মা র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার হেড অব টোব্যাকো কন্ট্রোল মো. হাসান শাহরিয়ার।প্রতিবেদনে বলা হয়,  তামাক কোম্পানিতে সরকারের অংশীদারিত্বের সুযোগ নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত হস্তক্ষেপ করছে তামাক কোম্পানি। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব হবে না। বাংলাদেশে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) আর্টিকেল ৫.৩ -এর বাস্তবায়ন সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়,  ৩৩টি দেশের মধ্যে যে ৩টি দেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি, বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে মাত্র দুটি দেশ- জাপান এবং জর্ডান। প্রতিবেদন অনুযায়ী,  বহুজাতিক তামাক কোম্পানিতে সরকারের নয় দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার থাকায় এবং তামাক কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে উচ্চ পর্যায়ের ৪-৬ জন সরকারি কর্মকর্তা মনোনীত থাকায় তারা কোম্পানির পক্ষে কাজ করে।ফলে তামাক নিয়ন্ত্রণে তাদের হস্তক্ষেপ করা সহজ হয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন করতে হলে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহার করা জরুরি।অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন,  আমাদের সংবিধানে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তামাকের কারণে এই অধিকারগুলো ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।  সুতরাং আইনগত, নৈতিক এবং অর্থনৈতিক যুক্তিতেও তামাক নিয়ন্ত্রণ করা দরকার অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আত্মার আহ্বায়ক মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, নারী জোটের ফরিদা আকতার।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন   থাইল্যান্ডের থামাসাত ইউনিভার্সিটির  হেড অব গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ড. মেরি আসুন্তা, ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডসের  মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।

অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৯ -এর  বিজয়ী সোহাদা আফরিন, শরীফ সুমন এবং মামুন আব্দুল্লাহর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।।