গ্লুকোমিটার ব্যবহারের সাধারণ ভুল

image_titleডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এতে রোগীর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও ওষুধের দ্বারা রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে তা বোঝা যায়। তবে তার জন্য প্রতিবার হাসপাতাল যাওয়া চাইতে একটি গ্লুকোমিটার কেনা অনেক সাশ্রয়ী এবং ঝামেলা মু্ক্ত।তাই এই যন্ত্র ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি জানা থাকা দরকার।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে গ্লুকোমিটার ব্যবহারের সাধারণ ভুল সম্পর্কে জানানো হল।অপরিষ্কার হাত: গ্লুকোমিটার য়ের সাহায্যে রক্তে শর্করার মাত্রা পরিমাপের আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে নিতে হবে। এমনকি হাত নোংরা না হলেও। কারণ হাত না ধুলে ফলাফল ভুল আসতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শর্করার মাত্রা পরিমাপের সময় রক্তের প্রথম ফোঁটা আর দ্বিতীয় ফোঁটার ফলাফলের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ভিন্নতা পাওয়া যায়। আর পরীক্ষার আগে কোনো ফল স্পর্শ করলে ফলাফল আরও অদ্ভুত হতে পারে।তাই প্রতিবার গ্লুকোমিটার ব্যবহারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে শুকিয়ে রক্তের প্রথম ফোঁটাটি নিতে হবে। হাত ধোঁয়া সম্ভব না হলে এবং শর্করা কিংবা চিনি আছে এমন কিছু স্পর্শ না করলে দ্বিতীয় ফোঁটা রক্ত ব্যবহার করতে হবে।খাওয়ার পরপরই মাপা: খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা পরিমাপ করার সময় খাওয়ার ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পরেই মাপতে শুরু করেন অনেকেই। ফলে শর্করার মাত্রা বেশি দেখায় যন্ত্রটি।বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা মাপার আগে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।যন্ত্রের সঙ্গে ভুল অনুষঙ্গ: গ্লুকোমিটার থেকে সঠিক পরিমাপ পেতে এবং আঙ্গুল ছিদ্র করার ব্যথা কমানোর জন্য যন্ত্রের সঙ্গে মানানসই ল্যানসেট বা সুঁই এবং স্ট্রিপ ব্যবহার করতে হবে।আবার অনেকদিনের পুরানো এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি এমন স্ট্রিপ ব্যবহারের কারণে ফলাফল ভুল আসতে পারে।কয়েকবার ব্যবহার পর সুঁই ভোঁতা হয়ে যেতে পারে, যা ব্যবহারে ব্যথা বেশি পাবেন। তাই প্রতিবার নতুন ব্যবহার করাই ভালো। সরাসরি তাপ লাগে এমন এবং আর্দ্র স্থান থেকে স্ট্রিপ দুরে রাখতে হবে।

স্ট্রিপ য়ের মেয়াদের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আঙুল চেপে রক্ত বের করা: হাত ঠাণ্ডা থাকলে কিংবা রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা থাকলে আঙ্গুল থেকে পর্যাপ্ত রক্ত বের নাও হতে পারে। তবে সেজন্য চেপে রক্ত বের করলে পরিমাপ ভুল আসতে পারে। কারণ সেক্ষেত্রে রক্তের চাইতে ইন্টারস্টিশল ফ্লুইড বেশি বেরিয়ে আসতে পারে। তাই সুঁই ফুটানোর আগে হাতে হাত ঘষে সামান্য গরম করে নিতে পারেন।এছাড়া কোন আঙ্গুল থেকে রক্ত নিচ্ছেন তার সঙ্গে পরিমাপের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে একই আঙ্গুল প্রতিবার ফুটা করলে ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে। ফুটা করতে হবে আঙ্গুলের শেষ মাথায় যাতে কোনো স্নায়ুতে আঘাত না লাগে।আর্দ্রতার অভাব: শরীরের পানির অভাব থাকলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। পানি পান পর্যাপ্ত না করলে রক্তপ্রবাহেও শর্করার ঘনত্ব বাড়ে এবং মুত্রত্যাগের বেগ ঘন ঘন দেখা দেয়। আর এভাবেই শরীরে পানিশুন্যতা হয়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি যত্নশীল হওয়ারও গুরুত্ব আছে। ভালোমানের যন্ত্র কেনা, নির্দিষ্ট সময় পর পর তার পরিমাপের নির্ভুলতা পরীক্ষা করা, ব্যাটারির দিকে খেয়াল রাখা, প্রতিবার ব্যবহারের আগে যন্ত্রটি রিসেট করা ইত্যাদি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে।আরও পড়ুনমিষ্টির কারণে ডায়াবেটিস হয় না  ডায়াবেটিস দূরে রাখতে  ডায়াবেটিস রোগীর জন্য রুটি না ভাত?  ।