ডেঙ্গুতে মৃত্যু ‘সবচেয়ে কম’ বাংলাদেশেই: স্বাস্থ্য ডিজি

image_titleডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে বুধবার সাংবাদিকদের জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত এক কর্মশালায় একথা বলেন তিনি।আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা একটি মৃত্যুও চাই না। তারপরও আমি মৃত্যু হার গণনা করে দেখেছি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র দশমিক শূন্য শূন্য ২ শতাংশ মারা গেছে। যদি আমরা বহিঃবিভাগ ও প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদেরও এই গণনায় ধরি তাহলে মৃত্যু হার আরও কমে আসবে।

এ বছর বিশ্বের ১২৮টি দেশে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশে মৃত্যু হার সবচেয়ে কম। দেশের হাসপাতালগুলোতে এরমধ্যে ৭৭ হাজার ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে ১৯১ জন। এরমধ্যে ১০১টি ডেথ রিভিউ শেষে ৬০ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে বলে নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর।  অর্থাৎ বাকি ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রে কি হাসপাতালে রোগ শনাক্তকরণ ভুল হয়েছিল, সে প্রশ্ন করা হয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে।ফিলিপিন্সে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল  জবাবে তিনি বলেন, কিছু রোগীর বেলায় ভুল হয়ে থাকতে পারে। কারণ এ বছর ডেঙ্গু একটি সাধারণ অসুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তাদের ভুল চিকিৎসা হয়েছিল, তা কিন্তু নয়।    আশঙ্কাজনক রোগীর বেলায় লক্ষণ দেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয় হাসপাতালগুলোতে। তারা রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস দেখেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। সুতরাং রোগীরা চিকিৎসা পায়নি, এমনটা বলার সুযোগ নেই। তবে পরীক্ষায় ডেঙ্গু  নেগেটিভ  হওয়ার পরও যাদের এই রোগে মৃত্যু হয়েছে সেগুলোর কারণ খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে যেন কেউ মারা না যান। এ বছর ২৪ অগাস্ট পর্যন্ত ফিলিপিন্সে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৩৩২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। এ মহামারীতে এরইমধ্যে এক হাজার ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।থাইল্যান্ডে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার।

মারা গেছেন ৭০ জন। আর মালয়েশিয়ায় ৮২ হাজার ২৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দেশটিতে এরই মাঝে ১৩১ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের চেম্বারে আসা রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু ধরা পড়ার সংখ্যা বেশি। খুব তাড়াতাড়ি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা   জ্বর নিয়ে আসা রোগীদের ১০ থেকে ২০ শতাংশের ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা নিয়ে অনেকে একটু বেশিই বলে ফেলেছেন। অনেক রোগীই ছিল মৌসুমী জ্বরে আক্রান্ত। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও জটিলতা ও মৃত্যুর হার কমই বলে দাবি করেন তিনি।গত দশ বছরে বিশ্বে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেকেই এখন এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্ত এবং রোগীর চিকিৎসা সেবায় মৃত্যু ঝুঁকি ১ শতাংশের নিচে কমিয়ে আনা সম্ভব।ঢাকায় এইডিস ইজিপ্টি ডেঙ্গু ছড়ালেও গ্রামে তা ছড়াচ্ছে এইডিস অ্যালবোপিকটাস।আইইডিসিআর বলছে, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা গেছে জ্বর হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা বাইরে কোথাও ভ্রমণ করেছেন।অধ্যাপক ফ্লোরা সাংবাদিকদের কাছে বরিশালে তাদের গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন। এতে দেখা যায়, এই জেলার রোগীরা এইডিস অ্যালবোপিকটাসের কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।  তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া এই এলাকায় আমরা এইডিস ইজিপ্টি মশা খুঁজে পাইনি। এসব এলাকা থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পূর্ণাঙ্গ মশার জন্ম দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। ৭৫৫টি পূর্ণাঙ্গ মশার মধ্যে ১৪টি ছিল এইডিস প্রজাতির, তাদের ৭টি অ্যালবোপিকটাস এবং বাকিগুলো ছিল অন্য প্রজাতির মশা। এরমধ্যে কোনোটাই ইজিপ্টি প্রজাতির ছিল না। তবে কুষ্টিয়ার এক গ্রামে অ্যালবোপিকটাসের সঙ্গে ইজিপ্টি মশাও পাওয়া গেছে বলে জানান ফ্লোরা।।