সন্তানের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ের আলাপ

image_titleবিবাহ বিচ্ছেদের পর সামাজিক ও মানসিক টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সেই ঝক্কি কাটিয়ে উঠতে বৈবাহিক জীবনের প্রতি পুনরায় আস্থা যোগাতে পেরিয়ে যায় অনেকটা সময়।আর জীবনে নতুন কারও আবির্ভাব হলেও দেখা দেয় নানান বিপত্তি। এর মধ্যে সম্ভবত বড় বিপত্তি হয় যদি সন্তান থাকে তবে তার কাছে নতুন মানুষটিকে তুলে ধরা।

ভারতের ইনসাইট কাউন্সিলিং সার্ভিস য়ের কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট রচনা আয়াত্রামানি বলেন, সন্তানকে এজন্য আগেভাগেই প্রস্তুত করে নেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগেও আঁচ দেওয়া উচিত। বাবা কিংবা মায়ের নতুন কারও সঙ্গে সম্পর্ক হওয়া এবং দ্বিতীয়বার বিয়ে হওয়ার ধারণার সঙ্গে সন্তানকে পরিচিত করতে হবে। এজন্য এমন ঘটনা সংবলীত বই পড়া কিংবা সিনেমা দেখা সহায়ক হবে। পরবর্তী ধাপ হবে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর ব্যাপারটা একেবারে লুকিয়ে না রেখে তাকে জানানো যে নতুন সম্পর্কের ব্যাপারে ভাবছেন, অগ্রসর হচ্ছেন। এতে আপনার সন্তান সম্ভাব্য ভবিষ্যত সম্পর্কে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে। পুরো ঘটনা আড়ালে রেখে হঠাৎ একদিন দ্বিতীয় বিয়ে কিংবা নতুন সম্পর্কের সংবাদ দিয়ে তাদের চমকে দেওয়াটা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। আয়াত্রামানি আরও বলেন, নতুন সম্পর্কের বিষয়ে না বলার চাইতেও ক্ষতিকর হতে পারে মিথ্যা বলা। নতুন প্রেমিক কিংবা প্রেমিকাকে শুধুই বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়ে যাওয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টা আপনার কাছে যৌক্তিক মনে হলেও পরে সন্তানের জন্য তা মেনে নেওয়া দুষ্কর হয়ে উঠতে পারে। সন্তানের কোনো অবস্থাতেই এমন মনে হওয়া উচিত নয় যে তার বাবা কিংবা মা তাকে ধোঁকা দিচ্ছে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে সন্তানের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা আবশ্যক। জীবনযাত্রা-বিষয়ক আরেক ভারতীয় সংস্থা, এনএলপি অথরিটি র জীবন ও সম্পর্ক-বিষয়ক পরামর্শদাতা আশিষ সেগাল দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আরেকটি দিক তুলে ধরেন। আর তা হল, কীভাবে বুঝবেন আপনি আরেকবার সম্পর্কে জড়ানো জন্য তৈরি?আশিষ বলেন, প্রথমেই নিশ্চিত হবে অতীত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত সকল ক্ষোভ ও দুঃখ থেকে আপনি মুক্ত। এসময় সম্পর্ক সাময়িক বা দীর্ঘস্থায়ী দুটোই হতে পারে। আর এই বিষয়ে নিজেকেই নিশ্চিত হতে হবে।

সন্তান থাকার পরও নতুন বিয়ে সম্পর্কে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তীত হচ্ছে, তবে বদলানো এখনও অনেকটা বাকি।আয়াত্রামানি বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ের আগে অনেক বাবাই তার সন্তানকে বলেন, সন্তানের পরিচর্যার জন্যই তার বিয়ে করা উচিত। এতে আপনার দ্বিতীয় বিবাহের সিদ্ধান্তের দায়ভার সন্তানের উপর চাপিয়ে দেওয়া হল, যা অনুচিত। সন্তানের সঠিক কারণটা জানা উচিত। আর আপনার উচিত তা জানানোর সৎ সাহস সঞ্চয় করা। অনুশোচনায় ভোগা যাবে নাপ্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে সবার আগে তার সন্তান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সঙ্গ পাওয়ার বিষয়টা হয়ত একক বাবা কিংবা মায়ের ক্ষেত্রে অনুশোচনায় ভোগাতে পারে। এই অনুশোচনা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে সম্পর্কের জন্য, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নতুন যুগল বা দম্পতির মধ্যকার সম্পর্ক। আবার সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।ছবি: রয়টার্স।আরও পড়ুনএকা হাতে সন্তান পালন  দেরিতে বাবা হওয়ার ঝুঁকি  সন্তানের সঙ্গে ঋতুস্রাব নিয়ে আলোচনা করতে  বেশি চাপে সন্তানের ক্ষতিপর্ন থেকে সম্পর্কে টানাপোড়ন  ।