এক্সনের অনুসন্ধানী জাহাজকে ‘বাধা’ ভেনেজুয়েলার নৌবাহিনীর

image_titleরোববার তাদের জলসীমায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে গায়ানার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অপরদিকে তাদের জলসীমায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা; খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।রয়টার্স জানিয়েছে, সম্প্রতি গায়ানা উপকূলে অনেকগুলো তেলক্ষেত্রে অবিষ্কারের মাধ্যমে দেশটির ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম তেল উৎপাদি দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অপরদিকে অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকা ওপেক সদস্য ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন প্রায় ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে; এ পরিস্থিতিতেই দুদেশের শতাব্দি প্রাচীন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটেছে।নরওয়ের কোম্পানি পেট্রোলিয়াম জিও-সার্ভিসেস (পিজিএস) এর জাহাজ দ্য রামফর্ম টেথিস সাগরের ওই এলাকায় এক্সনের পক্ষ থেকে সিসমিক জরিপ চালিয়ে তেল অনুসন্ধান করছিল, ভেনেজুয়েলার নৌবাহিনী তাদের দিকে এগিয়ে এলে জাহাজটি অনুসন্ধান বন্ধ করে পূর্ব দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন পিজিএসের মুখপাত্র বার্ড স্টেনবার্গ।শনিবার রাতে গায়ানার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে এই অবৈধ, আক্রমণাত্মক ও শত্রুতামূলক আচরণ গায়ানা প্রত্যাখ্যান করছে বলে জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী কর্তৃক গায়ানার অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি প্রকৃত হুমকি প্রদর্শিত হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও অক্ষুণ্নতা লঙ্ঘিত হয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে তারা জাতিসংঘের কাছে প্রতিবেদন পেশ করবে এবং ভেনেজুয়েলা সরকারকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবে বলে জানিয়েছে গায়ানার মন্ত্রণালয়টি।  এক্সনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন এই তেল কোম্পানিটি গায়ানার স্টাব্রোয়েক ব্লকের পশ্চিমাংশে সিসমিক অনুসন্ধান নিরাপদে চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখবে এবং তাদের জাহাজটি গায়ানার একান্ত অর্থনৈতিক এলাকায় অনুসন্ধানরত ছিল।রোববার এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী নিয়মিত টহলকালে এক্সনের ভাড়া করা দুটি নৌযানকে বাধা দিয়েছিল এবং ওই এলাকাটি কোনো সন্দেহ ছাড়াই ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম এলাকার ভিতরে ছিল।মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, ওই নৌযানগুলোর ক্যাপ্টেনদ্বয় তাদের নৌবাহিনীকে জানায় এই এলাকায় অনুসন্ধান চালানোর জন্য তারা গায়ানা সরকারের অনুমতি নিয়েছে, জবাবে নৌবাহিনী জানায়, এই এলাকাটির ওপর গায়ানার কোনো আইনগত অধিকার নেই; এটি শোনার পর নৌযানগুলো ঘুরিয়ে চলে যায়।এ ঘটনাটি তারা জাতিসংঘকে অবহিত করেছে এবং গায়ানা সরকারের কাছে একটি প্রতিবাদ পত্র পাঠিয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।ঘটনাস্থলে দুটি না একটি অনুসন্ধানী জাহাজ ছিল তা নিশ্চিত করার জন্য যোগাযোগ করা হলেও পিজিএস অথবা গায়ানার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।।