ফাঁকি দিয়ে ফেইসবুকে চলছে বন্দুক বিক্রি

image_titleসামাজিক মাধ্যমটির মার্কেটপ্লেইসের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, অস্ত্র, গুলি বা বিস্ফোরক বিক্রি বা ব্যবহার নিষিদ্ধ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গ্রাহকরা মার্কেটপ্লেইসে দামী বন্দুকের কেইস বা বাক্স বলে অস্ত্র বিক্রি করছে।যখন কোনো সম্ভাব্য ক্রেতা ওই কেইসের ওপর আগ্রহ দেখায় তখন তাদেরকে ফেইসবুক মেসেঞ্জারে বিক্রেতার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করতে বলা হয়। আর মেসেঞ্জারেই বন্দুকের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে নর্থ ক্যারোলাইনায় একটি বন্দুকের কেইসের দাম দেওয়া হয়েছে ৯৫০ মার্কিন ডলার। সাধারণত দোকানে এই কেইসের দাম ৩০ ডলার।বিক্রেতাকে মেসেঞ্জারে বার্তা দেওয়া হলে জানা গেছে তিনি আসলে এআর-১৫ মডেলের একটি সেমিঅটোমেটিক রাইফেল বিক্রি করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি বড় গোলাগুলির ঘটনায় এই বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছে।বিক্রেতা ৬৭০ রাউন্ড গুলিসহ বন্দুকের ছবি শেয়ার করেছেন। বন্দুকটি কিনতে দুই ঘন্টার মধ্যে ৩০ জনের বেশি গ্রাহক আগ্রহ দেখিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ওই বিক্রেতা।ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিররের অনুসন্ধানেও বেশ কয়েকটি বন্দুকের বিজ্ঞাপন উঠে এসেছে। ওয়েলফোর্ড, সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ায় আট হাজার মার্কিন ডলারের একটি বিজ্ঞাপনের ক্যাপশনে বলা হয়, আবারও বেকুব গ্রাহকদের জন্য শুধু কেইস । এটি নীতিমালার বাইরে যায় না। ভার্জিনিয়ার ম্যারিওনে আরেক বিক্রেতা বলেন, ছবি শুধু দেখানোর জন্য, কেইসের ভেতরে যা আছে তাই আসল। যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ক্রেতার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা বাধ্যতামূলক। ফেইসবুক মার্কেটপ্লেইসে এই প্রক্রিয়া ফাঁকি দিতে পারেন গ্রাহক।২০১৬ সালে চালু হয় ফেইসবুক মার্কেটপ্লেইস। গ্রাহকদেরকে পুরানো পণ্য বিক্রি ও কেনার সুযোগ দেওয়া হয় এতে। অবৈধ পণ্য বিক্রি ঠেকাতে অ্যালগরিদম এবং মানব কর্মী উভয়ের মাধ্যমেই নজরদারি করা হয়।নজরদারির মধ্যে থাকলেও মাদক, অস্ত্র, প্রাণী এবং যৌনকাজের মতো ব্যবসা অবৈধ এবং এ বিষয়গুলো ঠিকঠাক তদারকি না করতে পারার জন্য বারবারই সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেইসবুক।

বন্দুক বিক্রি নিয়ে ফেইসবুকের এক মুখপাত্র বলেন, ফেইসবুকে বন্দুক বিক্রি স্পষ্টভাবেই আমাদের নীতিমালা অমান্য করছে। যে পণ্যগুলো তাদের নীতিমালা অমান্য করছে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সরানো হবে বলেও জানান ওই মুখপাত্র।।