ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, অভিযোগ পাকিস্তানের

image_titleবাঁধের ছেড়ে দেওয়া পানিতে সীমান্ত অঞ্চলের কিছু এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে, এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত পাকিস্তান এর মাধ্যমে নয়া দিল্লি তাদের ওপর পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।সোমবার ভারত পাকিস্তানের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।নয়া দিল্লি বলছে, দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী পানি নির্ধারিত মাত্রা অতিক্রম করার পরই সোমবার অতিরিক্ত পানি ছাড়ার বিষয়টি ইসলামাবাদকে জানানো হয়েছে।প্রতিবেশী এই দুই দেশের বিবাদ নতুন নয়; চলতি মাসে ভারত তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অংশের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের পর দেশদুটির সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে।

উভয় দেশই দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের মালিকানা দাবি করে আসছে। কাশ্মীরের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় দেশ দুটির মধ্যে সিন্ধু নদ ও এর শাখা-প্রশাখার পানির প্রবাহ নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি সংগঠন কাশ্মীরে বোমা হামলা চালিয়ে ভারতীয় আধাসামরিক পুলিশের ৪০ জনেরও বেশি সদস্যকে হত্যার পর ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে নদীর অতিরিক্ত পানি ভাগাভাগি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।২০১৬ সালে সিন্ধু চুক্তি সংক্রান্ত একটি বৈঠক স্থগিত করার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে পানি ও রক্ত একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছিলেন।সোমবার ইসলামাবাদ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি বহাল রয়েছে, সেগুলোকে অবজ্ঞা করার চেষ্টার অংশ হিসেবেই নয়া দিল্লি এবার আচমকা সুতলেজ নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণ ছেড়ে দিয়েছে। তারা (আমাদের) কূটনীতিকভাবে একঘরে করতে চেষ্টা করছে, অর্থনীতির প্রবাহ রোধ করার চেষ্টা করছে, এমনকী পানি সম্পদের ওপরও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অর্থনীতি, কৃষি ও সেচের ক্ষেত্রে পানির সরাসরি প্রভাব আছে, রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন পাকিস্তানের পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ওয়াপদা) চেয়ারম্যান লে. জেনারেল (অবসর) মুজাম্মিল হুসেইন।উজানে থাকার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ভারত পাকিস্তানের ওপর পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ তার।এরপর একইদিন ভারতের কেন্দ্রীয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী জলাধারগুলো থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়া ও বন্যার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেই কেবল আগেভাগে এ বিষয়ক তথ্য বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে।চলতি বন্যা মৌসুমে এ পর্যন্ত ভারতের দিক থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ের বিষয়টি দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে তারা।সোমবার ভারতের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুতলেজ নদীর পানি নির্ধারিত মাত্রার উপরে উঠে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই তা পাকিস্তানকে জানানো হয় বলে বিবৃতিতে দাবি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া এ বিষয়ক চুক্তির প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও মন্ত্রণালয়টি দাবি করেছে।পানিপ্রবাহ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় সোমবার পাকিস্তানের জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পাঞ্জাবের কিছু এলাকায় ছোটখাট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিলেও কোনো এলাকায় বন্যা হয়েছে কিনা রয়টার্স তা নিশ্চিত করতে পারেনি।।