মশা যখন কামান

image_titleএই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণীটির নাম মশা। 'মশা মারতে কামান দাগা'র পুরনো প্রবচনকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে একেকটি মশা যেন এখন পরিণত হয়েছে একেকটি 'কামানে'। এডিস মশা নামের এই কামানের কারণে এখন রাজধানীসহ দেশবাসীর উদ্বেগ-আতঙ্কের শেষ নেই। প্রায় প্রতিদিনই এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটছে মানুষের।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণীটির নাম মশা। মশা মারতে কামান দাগা র পুরনো প্রবচনকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে একেকটি মশা যেন এখন পরিণত হয়েছে একেকটি কামানে । এডিস মশা নামের এই কামানের কারণে এখন রাজধানীসহ দেশবাসীর উদ্বেগ-আতঙ্কের শেষ নেই। প্রায় প্রতিদিনই এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটছে মানুষের।সরকারি হিসাবে গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৯৭ জন। বেসরকারি হিসাবে অবশ্য মৃতের সংখ্যা ১৪৭ জন। প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যাও অনেক বেশি। এর মধ্যে গতকালই মারা গেছেন অন্তত আটজন। মশক নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের শুরুতে ব্যাপক উদাসীনতা থাকলেও বর্তমানে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোও হয়ে উঠছে তৎপর। নগরবাসীর মধ্যেও ফিরছে সচেতনতা। তার পরও মশা নিয়ন্ত্রণে আসছে না।এমন অবস্থার মধ্যেই আজ ২০ আগস্ট পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব মশক দিবস। প্রতি বছর এই দিনে পৃথিবীজুড়ে পালন করা হয় এ দিবস। এ দিনটি উৎসর্গিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসাবিজ্ঞানী স্যার রোনাল্ড রসের স্মৃতিতে।

১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট তিনি প্রথম প্রমাণ করেন একমাত্র স্ত্রী মশাই মানুষের দেহে ম্যালেরিয়ার জীবাণু ছড়ায়। বিশ্বে হাজারেরও বেশি প্রজাতির মশা রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু ক্ষতিকারক স্ত্রী মশা মানুষের রক্ত পান করে পুষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে ছড়িয়ে দেয় মানুষের দেহে মারাত্মক জীবাণু। রোনাল্ড রসের (১৮৫৭-১৯৩২) প্রতি সম্মান জানাতে যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন ১৯৩০ সালে দিবসটি পালন শুরু করে। পরে বিশ্ব মশা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা দিন দিন বাড়তে থাকে। এই আবিস্কারের জন্য পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান রোনাল্ড রস। বিশ্ব মশক দিবস উপলক্ষে বিগত বছরগুলোতে সরকার ও সিটি করপোরেশনের কোনো বিশেষ কর্মসূচি ছিল না। এবারও নেই।সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করার পেছনে অনেক বিষয় কাজ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি, গাফিলতি, সিন্ডিকেট, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা থেকে শুরু করে নাগরিকদের উদাসীনতাও।এসব কারণে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও প্রায় দুই মাস লাগবে।মশার ওষুধ নিয়ে যত অভিযোগ :দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনে মশার ওষুধ সরবরাহ করে আসছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে নোকন নামের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অসাধুতার অভিযোগ ওঠার পর সেটির কাছ থেকে ওষুধ কেনা বন্ধ করেছিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। পরে কখনও এসিআই, কখনও লিমিট এগ্রো লিমিটেডের কাছ থেকে ওষুধ কেনা হতো। সাদেক হোসেন খোকা মেয়র থাকার সময় ডিসিসির কাছে ৪০০ ড্রাম পানিকে মশার ওষুধ হিসেবে গছিয়ে দিতে গিয়ে লিমিট এগ্রো ধরা পড়ে যায়। ডিসিসি ভাগ হওয়ার পর আবারও লিমিট এগ্রো লিমিটেড দুই সিটি করপোরেশনে ওষুধ সরবরাহ করতে থাকে। এসিআই মশার ওষুধ সরবরাহের ব্যবসা থেকে সরে গেলে এটি একচেটিয়া ব্যবসা শুরু করে।গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওষুধের মানে ভেজাল পাওয়ার দায়ে লিমিট এগ্রোকে কালো তালিকাভুক্ত করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তারা নোকন নামের পুরনো অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে ব্যবহার শুরু করে। এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে, নোকনের নতুন ওষুধের মান ভালো। কিন্তু তারা পর্যাপ্ত সরবরাহ করতে সময় নিচ্ছে। এর বাইরেও আরও নতুন ওষুধ এসেছে, যা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে।এদিকে মশার ওষুধের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সরকারি প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে। কিন্তু ডকইয়ার্ডকে আবার ওষুধ সরবরাহ করে লিমিট এগ্রো লিমিটেড। ডিএনসিসির কালো তালিকাভুক্ত করার পর সেসব ওষুধও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে ডিএসসিসি সংগ্রহ করে ব্যবহার করেছে।অবশ্য ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, এরই মধ্যে পুরনো সব ওষুধ বাদ দিয়ে নতুন ওষুধ আনা হয়েছে। এখন সেগুলো ব্যবহারের পর দেখা যাক কী হয়।ভেজাল ওষুধ সরবরাহের পেছনে তিন প্রতিষ্ঠান :সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেই এমন সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে সরবরাহকারী সহজেই ভেজাল ওষুধ সিটি করপোরেশনকে গছিয়ে দিতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় মশারির মধ্যে কিছু মশা রেখে ঠিকাদারের সরবরাহ করা ওষুধ স্প্রে করা হয়। এতে ৮০ শতাংশ মশা মরলে ওষুধটিকে মাঠ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষার সময় এত বেশি ওষুধ স্প্রে করা হয় যে, কার্যকর না হলেও অনেক মশার মৃত্যু ঘটে। সেটাকেই মাঠ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হিসেবে দেখানো হয়।ঠিকাদারের সরবরাহ করা অনেকগুলো ড্রাম থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে কয়েকটি ড্রামের ওষুধের নমুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ শাখা ও মহাখালীর রোগ নিরীক্ষা, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। কিন্তু সব ড্রামের ওষুধ পরীক্ষা করা হয় না। ফলে ওষুধের নমুনা সংগ্রহেও একটি বড় ফাঁক রয়েছে। পাশাপাশি এ দুটি প্রতিষ্ঠানের যারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্বে থাকেন, ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের একটি বিশেষ সখ্য থাকার অভিযোগও রয়েছে দীর্ঘদিন। ফলে সহজেই মানহীন ওষুধ করপোরেশনকে গছিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।মশার ওষুধের সিন্ডিকেট : ২০১৫ সালে ৫ অক্টোবর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে কীটনাশক আমদানির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পেস্টিসাইড কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির (পিটাক) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষিকাজে ও জনস্বাস্থ্যে ব্যবহার্য বালাইনাশক দ্রব্যাদির নতুন রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারেও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে পণ্যের তথ্য-উপাত্ত, কারিগরি মূল্যায়ন, মিশ্রণের পরিমাণ এবং মূল্যায়ন, ভ্যাট সার্টিফিকেট, কোম্পানি মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের সচ্ছলতা সনদ, এনওসি, পণ্যের নমুনা মূল্যায়ন এবং বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিপিএ) নতুন নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়।এ বিজ্ঞপ্তিকেই বিধিমালা হিসেবে প্রচার করে একটি সিন্ডিকেট দেশের কীটনাশক আমদানি খাতকে জিম্মি করে ফেলে। বিভিন্ন দপ্তরে এ সিদ্ধান্তকে বিধিমালা আখ্যা দিয়ে এই ধাপগুলো পেরিয়ে নতুন কোম্পানিগুলোর ওষুধ আমদানির সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম তিনি বলেন, বিজ্ঞপ্তিকে বিধিমালা হিসেবে জাহির করে মাত্র দুটি কোম্পানি বিদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করত। এদের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সরবরাহ করছে।মেয়র বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে দুটি কোম্পানি ওষুধ আনবে, এটা হতে পারে না। এরই মধ্যে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন ডিএনসিসিই ওষুধ আমদানি করবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।ভেজালের কারণে ওষুধ অকার্যকর : গত বছর মশক নিধনের ওষুধ পরীক্ষা করে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) জানায়, ওষুধটি অকার্যকর। অ্যাডাল্টিসাইডে যে পরিমাণ পারমেথ্রিন, টেট্রামেথ্রিন এবং এস বায়ো অ্যালাথ্রিন থাকা প্রয়োজন, তার মধ্যে টেট্রামেথ্রিন নেই। ফলে ওই ওষুধ ব্যবহারে মশা ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। অথচ এ ওষুধকেই মানসম্মত হিসেবে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন ওষুধের মান পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকারী বিশেষজ্ঞরা। ডিএনসিসির মশক নিবারণী কমিটির সদস্য ও কাউন্সিলর ডা. জিন্নাত আলী বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধের মান সন্তোষজনক হিসেবে সার্টিফিকেট দিলে সেই ওষুধ নেওয়া হয়। সেই ওষুধে মশা না মরলে দায় কি সিটি করপোরেশনের? তিনি বলেন, এর অর্থ, যারা পরীক্ষা করে মান সন্তোষজনক বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, তারা সঠিক রিপোর্ট দিচ্ছেন না।গত মে মাসে ডিএনসিসি চার লাখ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ নেয় নোকন নামের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। সেটা নেওয়ার পক্ষে মত দেন খামারবাড়ীর উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক এ জেড এম সাব্বির ইবনে জাহান, রসায়নবিদ ইসমত জাহান ইমি, বালাইনাশক ও মান নিয়ন্ত্রণ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন ও আইইডিসিআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ।মো. হারুন অর রশিদ বলেন, তাদের মত দেওয়ার পরই লিমিটকে ডিএনসিসি ব্ল্যাক লিস্টেড করে। এরপর যে ওষুধ আনা হচ্ছে, এটার মান ভালো। তবে অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধের মান সন্তোষজনক ছিল না। তারা সে ব্যাপারে মতও দিয়েছিলেন। এর পরও সেই ওষুধ ব্যবহার করলে করার কিছু নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন বলেন, এসব ওষুধের মান সম্পর্কে নেতিবাচক মত দিলে তাদের ওপর অনেক চাপ আসে। তাই অনেক সময় তারা পক্ষে মত দিতে বাধ্য হন।গাফিলতি কেবল দুই সিটি করপোরেশনই নয় : ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতা শীর্ষে থাকলেও দায় আছে আরও অনেকেরই। সরকারি আরও ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানসহ দেশের নাগরিকরাও এই দায় এড়াতে পারেন না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান সমকালকে বলেন, মশার বংশবিস্তারের ঊর্বর ক্ষেত্র রাজধানীর বদ্ধ জলাশয়, বিশেষ করে খাল, বক্স কালভার্ট ও ড্রেন। এগুলো কোনো সময় পরিস্কার থাকে না। ঢাকা ওয়াসা নজর দিলে খালে পানিপ্রবাহ থাকত। বক্স কালভার্ট মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হতে পারত না। রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানই কখনও এদিকে নজর দেয়নি।এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও খাল পরিস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বেশিরভাগ খাল, ড্রেন, বক্স কালভার্টে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এসব বদ্ধ পানিতে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ওয়াসা বর্তমানে যেসব এলাকায় পাইপলাইন স্থাপনের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করছে, সেসব স্থানে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমছে। সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়ছে। এ ব্যাপারে সংশ্নিষ্ট ঠিকাদারদেরও কোনো সতর্ক করা হয়নি। এমনকি ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নেওয়ার পরও ওয়াসার পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও ডেঙ্গু বিষয়ে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই। বর্তমানে রাজধানীতেই জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ছয়টি বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রতিটি প্রকল্পের অধীনে একাধিক বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। এসব নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশেও এডিস মশা বংশবিস্তার করছে।একই অবস্থা গণপূর্ত অধিপ্তরের : ভবন তৈরির সময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশেষ নজর থাকার কথা বলা হলেও তারা একেবারে উদাস হয়ে বসে আছে। অথচ নির্মাণাধীন ভবনগুলো এডিস মশার কারখানা। এ ব্যাপারে রাজউকের সচিব সুশান্ত চাকমাও বলেন, এডিস মশা বা ডেঙ্গু নিয়ে রাজউকের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।একইভাবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, তিতাস গ্যাস, বিটিসিএল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়- প্রত্যেকেরই এ ক্ষেত্রে গাফিলতি ছিল বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।এতকিছুর পরও ভবন মালিক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সচেতনতা ফিরে আসেনি বলে অভিমত দিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভবন মালিকদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। তবে শিগগিরই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তার বিশ্বাস।।