ত্যাগে আনন্দে ঈদুল আজহা উদযাপন

image_titleধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের মহিমা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের মুসলিমরা তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে।...ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের মহিমা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের মুসলিমরা তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে।ঈদের দিন সোমবার সকালে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদে নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির উন্নতি-সমৃদ্ধির পাশাপাশি ডেঙ্গুর হাত থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করেন। ঈমানের পরীক্ষায় নবী হজরত ইব্রাহিমের উত্তীর্ণ হওয়ার স্মরণে সচ্ছল মুসলিমরা পশু কোরবানি দেন।

তবে এবার ডেঙ্গুর কারণে মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালেই ঈদ উদযাপন করেছেন।ঢাকায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত হয় সকাল ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সেখানে নামাজ আদায় করেন।মন্ত্রিসভার সদস্যরা, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মহিলাদের নামাজের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়ও ঈদের জামাত হয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব সবাই একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করেন।শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায়ে দেশব্যাপী নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঢুকতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হতে হয়েছে।রাজধানীর প্রধান ঈদগাহসহ সব ঈদগাহ ও মসজিদেই নামাজের আগে কোরবানির ফজিলত বর্ণনা করে বয়ান দেয়া হয়। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিদের অনেকেই বাবা-মা ও স্বজনের কবর জিয়ারত করতে কবরস্থানে যান। এ সময় স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন তারা।অন্যান্য বছরের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় দুই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া এবং দিনাজপুরের গোড়-এ শহীদ ময়দানে।ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ‘ঈদ মোবারক’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হয়েছে।কারাগার, হাসপাতাল, সরকারি শিশু কেন্দ্র, ছোটমণি নিবাস ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটি ছিল।পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে বুধবার অনেকেই অফিস করেন। ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বিনোদন পার্কগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। তবে বৃষ্টির কারণে ঈদের আনন্দে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। প্রতিবারের মতো এবারও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।বঙ্গভবন ও গণভবনে তারা সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন।।