খালেদা জিয়া এমন কিছু করেননি যে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে ফখরুল

image_titleনিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনঠাকুরগাঁও: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা হানিফের বক্তব্য খণ্ডন করে বলেছেন, খালেদা জিয়া এমন কিছু করেননি যে, তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি অন্যায় বা কোনও অপরাধ করেননি। নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সরকার ক্ষমতার জোরে তাকে বন্দি করে রেখেছে।মির্জা ফখরুল বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এ সময় পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক তারিক আদনান, যুবদল নেতা আবু তাহের দুলালসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, আইন সরকার ও শাসকদের করায়ত্ত, তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক নৈরাজ্য ও টানাপোড়েনের প্রভাব সাম্প্রতিক চামড়া বাজারের বিপর্যয়ের কারণ বলে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন,কোরবানির চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই সেটা মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। এটা দেশের বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতি, যার দীর্ঘস্থায়ী বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে আমাদের লেদার শিল্পের ওপরে।এজন্য সরকারকে তিনি দায়ী করে বলেন, ‘সরকারের পূর্ব পরিকল্পনার অভাব, ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনার জন্য সুবিধাজনক ঋণ প্রদানে অনীহা, এসব কারণেই এই নজিরবিহীন নৈরাজ্য ঘটেছে। আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পশুপালনকারী, চামড়ার ক্রেতা, এমনকি চামড়ার সঙ্গে যুক্ত বড় ব্যবসায়ীরাও।’বিএনপি মহাসচিব বলেন, তথাকথিত মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে সরকার দাবি করছে— তারা উন্নয়নের রোল মডেল, বিরাট একটা উন্নয়ন করে ফেলেছে। কিন্তু তাদের সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেশের বড় বড় অর্থনীতিবীদরা দেখিয়েছেন, এসব আসলে আরেকটি গণপ্রতারণা। আজ ব্যাংক সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ টাকা তুলতে গেলে টাকা পায় না। সরকার টাকা নিয়ে টাকা ব্যাংককে ফেরত দেয় না। আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। আবার অন্যদিকে সরকারি খরচ বাড়ানো হচ্ছে, যা আসছে জনগণের ট্যাক্স থেকে। আগে একটা পরিবার থেকে একটা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একজন থাকতে পারতেন,এখন সেখানে একই পরিবারের চার জন থাকার নিয়ম করা হয়েছে। এভাবে আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনের কাছে চলে যাচ্ছে জনগণের সব টাকা। আর এর মাধ্যমে দেশে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ কমিয়ে বিদেশের বাজারে পরিণত করা হচ্ছে দেশকে।সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনও সম্পর্ক নেই এবং জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত নন বলেই জনগণের প্রতি তাদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই।

সে কারণেই তারা জনসাধারণ ও দেশের জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতি করছেন।’ অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।।