মাটির পাত্রে ঈদের আমেজ

image_titleঈদ আয়োজন বেশ ঘটা করেই করা হয়। নারী, পুরুষ, ছেলে বুড়ো সবাই মেতে ওঠে। কোরবানির ঈদে কাজের চাপটাও একটু বেশি থাকে। তাই সারা দিনের পরিশ্রম শেষে সবাই যখন এক সঙ্গে খেতে বসবেন অথবা বাসায় অতিথি আসলে তাদের সামনে মাটির খোঁদাই কাজ করা বা মসৃণ নকশার থালা বাসনের ব্যবহার বেশ চমকপ্রদ হয়ে উঠবে।

এই ধরনের উপাদান ব্যবহারে মানুষের মনে নরম অনুভূতি সৃষ্টি করে ফলে পারস্পারিক আন্তরিকতাও বৃদ্ধি পায়।তাছাড়া মাটির পাত্রে রান্না করা খাবার শরীরের জন্যও ভালো। ভারতের শরীরবিদ ডা. সরস সলীল বলেন, মাটির পাত্র এক ধরনের ক্ষারীয় উপাদান দিয়ে তৈরি যা খাবারের অ্যাসিড প্রক্রিয়াজাতকরণে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়তা করে। তাছাড়া মাটির পাত্রে রান্না করা খাবারে লৌহ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সালফারের মান বেশি থাকে। তিনি আরও বলেন, মাটির পাত্রে রান্না করলে খুব সহজেই তেলের ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়া যায়। কেননা এর প্রাকৃতিক আর্দ্রতা খাবার ভালোভাবে রান্না করার জন্য উপযোগী। বাজার ঘুরে মাটির পাত্রের চাহিদা ও এর দরদাম সম্পর্কে জানা যায়।রাজধানীর মাটির তৈরি তৈজসের দোকানগুলো ইদানিং দেখা যাচ্ছে পালিশ করা মাটির বাসন। দোকানীদের মতে, এর চাহিদাও বেশ ভালো।বর্তমানে মাটির তৌজস কেবল বাটি, থালা বা সরাতে সীমাবদ্ধ নয় বরং এগুলোর পাশাপাশি গ্লাস, কাপ, পিরিচ, কয়েক আকারে ও মাপের বাটি, ট্রে চামচ ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে।বর্তমানে নিজের শখ অথবা ঐতিহ্যকে লালন করে অনেকেই মাটির ও দেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহী হচ্ছে। বিশেষ দিনগুলোতে এই সকল সামগ্রীর ব্যবহার আমাদের দেশীয় পণ্যের বাজারকে আরও গতিশীল করবে।দরদামবিভিন্ন জায়গা ঘুরে জানা যায় এসকল মাটির জিনিসের দরদাম সম্পর্কে। রাজধানীর দোয়েল চত্বরে মাটির প্লেট পাওয়া যাবে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। গ্লাস ৪০, মগ ৫০, কাপ-পিরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বড় বাটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

এছাড়াও নানান মাপের বাটি, হাফ প্লেট ও পিরিচের দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।প্রাপ্তিস্থানঢাকা কলেজের সামনে, গাউসিয়ার ভেতরের অংশে, দোয়েল চত্বর, ধানমণ্ডির চার নম্বর সড়কের ফুটপাথে পাওয়া যাবে মাটির তৈরি তৈজসপত্র। এছাড়াও আড়ং য়ের শোরুমে দেখা মিলবে মাটির তৈরি বাসনকোসনের।আরও পড়ুনমাটির পাত্রে রান্নার উপকারিতা  ঘর সাজাতে মাটির জিনিস  রান্নার পাত্র থেকে দাগ তুলতে  ।