দেশি মোরগের ঝুনুর পোলাও

image_title

বলধা গার্ডেন থেকে নারিন্দার দিকে হাঁটতে থাকলে প্রথমেই বাঁয়ে পড়বে খ্রিষ্টান কবরস্থান। সেটা ছাড়িয়ে নারিন্দা মোড়ে এলে দেখা যাবে ‘ঝুনু পোলাও ঘর’। ছোট্ট একটা দোকান। দোকানের মুখে বিশাল হাঁড়ি।

পাশে ম্যানেজারের বসার জায়গা। এরপর দুই সারিতে বেশ কিছু চেয়ার-টেবিল। একদম পেছনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, আর তার পাশেই কোমল পানীয়ের জন্য ফ্রিজ।

ঝুনুর পোলাওয়ের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো, এরা রান্নায় ব্যবহার করে দেশি মোরগ। হাফ প্লেট মোরগ পোলাওয়ের দাম ১২০ টাকা। এই পরিবেশনায় থাকে এক টুকরো মাংস, একটা ডিম, কিছু গিলা-কলিজা-মাথা আর একটা আলাদা ছোট প্লেটে পেঁয়াজ, লেবু, মরিচের সালাদ। ব্যস! হাত ডুবিয়ে রসনা পরিতৃপ্ত করতে কতক্ষণ?

ক্যাশে যিনি বসে আছেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করি, আপনার নাম কী? আপনি কি ম্যানেজার?

আমার নাম মো. শামীম। মালিকও না, ম্যানেজারও না। এইখানে বসি।

এখানে কি খুব ভিড় হয়?

লাঞ্চ টাইমে দুই-চাইরজন আসে। তারপর একজন একজন করে আসে।

মো. শামীম একটু থামতেই দোকানের হাঁড়ির খবর দিতে শুরু করলেন বেয়ারা দুদু মিয়া, আমগো দোকান বেলা দেড়টা থিকা রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা। গিলা-কলিজা ওই অরিজিনাল দেশি মুরগিরই। চাবাইয়া খাইবেন।

তাঁর কাছ থেকেই জানা যায়, ১৯৭০ সালে নুর মোহাম্মদ এই দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। এই ছোট পরিসরেই তিনি শুরু করেছিলেন পোলাও বিক্রির কাজ।

আস্তে আস্তে মানুষ ভালোবেসে ফেলেছে অল্প তেল দিয়ে রান্না করা এই পোলাও। নুর মোহাম্মদ মারা গেছেন। এখন ব্যবসা দেখেন পরিবারের লোকজন।

এরই মধ্যে ভরে গেছে কয়েকটি টেবিল। সাতক্ষীরার তরিকুল ইসলাম এসেছেন পরিচিত ভাইয়ের কাছে। সেই ভাই-ই এখানে নিয়ে এসেছেন তরিকুলকে।

আপনার নাম?

তুহিন রহমান। আমি প্রিন্টিং প্রেসে মেকানিকের কাজ করি।

তরিকুল সাহেবকে ঝুনুর পোলাও ঘরে নিয়ে এলেন কেন?

এই রকম সুস্বাদু পোলাও কই পাইবেন? পরিষ্কার হোটেল। আমরা এখানেই খাওয়াদাওয়া করি।

এ সময় মোটরসাইকেলে একজন সেখানে এসে হাজির হন। ভালো করে সাইনবোর্ড দেখেন। তারপর মো. শামীমকে জিজ্ঞেস করেন, এটাই কি অরিজিনাল ঝুনুর পোলাও?

শামীম মাথা নাড়েন।

ধানমন্ডি থেকে এসেছি। আপনাদের দোকানের পোলাও নিতে বলেছে। অনেকগুলো প্যাকেট নেব। পর্যাপ্ত আছে তো?

মো. শামীমের ঠোঁটে দেখা গেল গর্বের হাসি, ৪০ কেজি পোলাও খায়া শেষ করা পারবেন না!

ততক্ষণে পাতিলের ঢাকনা সরিয়ে একসঙ্গে নয়টা প্যাকেট খোলা হয়ে গেছে। সেখানে একটু পোলাও, একটা ডিম আর একটা করে মুরগির টুকরা ঢুকে পড়ছে অনায়াসেই।