নারীর নিরাপত্তায় রাষ্ট্র ও সরকার ব্যর্থ নারী সংহতি

নারী সংহতির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দোষী ব্যক্তিকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাব দেখা দিলে এ ধরণের অপরাধ প্রবণতা ও অস্থিরতা বেড়ে যায়। কোন ন্যায্য বিষয়ে প্রতিবাদ, সমাবেশ করতে গেলে যেখানে দফায় দফায় পুলিশী বাধা, হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় সেখানে দিনেদুপুরে গণপিটুনিতে মানুষ মারার মত ঘটনা কিভাবে ঘটতে পারে?নারী সংহতি সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার এবং সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব এক যৌথ বিবৃতিতে মঙ্গলবার একথা বলেন। বিবৃতিতে তারা দিনেদুপুরে নিরীহ নিরাপরাধ মানুষের উপর গণপিটুনির বিষয়ে পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নীরব ভূমিকার বিষয়েও প্রশ্ন করেন।

এ ধরনের ঘটনার জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনের নাগরিক নিরাপত্তার প্রতি চরম অবহেলা এবং অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন তারা।বিবৃতিতে তারা বাড্ডায় তাসলিমা বেগমসহ সারা দেশে গণপিটুনিতে গত ৫ দিনে ৭ জন হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি এবং এলাকা ভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গড়ার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ছেলেধরা গুজব তুলে গত ২০ জুলাই রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাসলিমা বেগমকে। একই গুজবে সারা দেশে গত ৫ দিনে ৭ জন মানুষ গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছে।নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, একটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বোঝা যায় সে দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার অবস্থা দেখে। এ বছরের প্রথম ৬ মাস অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২০৮৩ নারী-শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১১৩ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। মারা গেছে ২৬ জন। এদের মধ্যে ১০ মাসের শিশু থেকে ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রয়েছেন।নেতৃবৃন্দ ক্ষোভের সাথে বলেন, একটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গুর এবং পঙ্গু হলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্তর থেকে পারিবারিক ক্ষেত্রেও নারী বিদ্বেষী ও নারীর প্রতি অবমাননাকর পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা কাঠামো বিদ্যমান। যার নজির পারিবারিক আইনের নানা বৈষম্যমূলক ধারার মধ্যে স্পষ্ট। বিবাহের বয়স নিয়ে সাম্প্রতিক বয়স কমানোর আইনটি তার এক প্রমাণ।তারা বলেন, ধর্ষণ এবং যৌননিপীড়নের হার বৃদ্ধি এবং এর ভয়াবহতা থেকে এটা পরিষ্কার যে নারীর নিরাপত্তা প্রশ্নে রাষ্ট্র-সরকার ক্রমাগত ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ সব ঘটনার বিচার না করে রাষ্ট্র-সরকার ধর্ষক-খুনিদের রক্ষা করছে এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।

একদিকে ক্ষমতাসীনরা অপরাধ করে পার পাচ্ছে অন্যদিকে সাধারণ মানুষও বিচারহীনতার সংস্কতিতে গা ভাসিয়ে যা খুশী তাই করার সাহস পাচ্ছে। ফলে প্রতিদিন নারী-শিশুসহ সবাই ভীষণ আতঙ্ক ও ভীতির মধ্যে এই রাষ্ট্রে অনিরাপদ-অস্বাস্থ্যকর এবং মানসিক অবসাদের মধ্যে জীবন-যাপন করছে।নারী সংহতির নেতারা দেশে নারী-শিশুসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি জানান।।