আর নয় ডেমু ট্রেন

image_titleচীন থেকে ডেমু ট্রেন কেনার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে আর ডেমু ট্রেন না চীন থেকে ডেমু ট্রেন কেনার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে আর ডেমু ট্রেন না কেনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী ডেমু ট্রেনের পরিবর্তে অন্য ট্রেন কেনার নির্দেশ দেন। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রতি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম বানানোরও নির্দেশ দেন তিনি।পরিকল্পনা কমিশনের দেওয়া তথ্য মতে, গতকালের একনেক সভায় ৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক পর্যন্ত চলাচলের জন্য ছয় সেট ডেমু ট্রেন কেনাসংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়।

তখন প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে তা সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠান। একনেক বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ডেমু ট্রেন কিনতে প্রধানমন্ত্রীর আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরেন পরিকল্পনাসচিব নূরুল আমিন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে সচিব বলেন, আগে যেসব ডেমু ট্রেন কেনা হয়েছিল সেগুলো খুব কম সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডেমু ট্রেন চলাচলের উপযোগী নয়। ডেমু ট্রেন মেরামতের মতো অবকাঠামো বাংলাদেশে এখনো গড়ে ওঠেনি।সচিব বলেন, ডেমু ট্রেনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, ডেমু ট্রেনে অল্পসংখ্যক যাত্রী উঠতে পারে। বেশি দূরে যেতে পারে না। টয়লেট সুবিধাও নেই। এর আগে যেসব ডেমু ট্রেন কেনা হয়েছিল, তার অনেকটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এসব কারণে নতুন করে আর ডেমু ট্রেন না কিনতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রথম ডেমু ট্রেন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালে। দুই বছর পর ২০১৩ সালে ৪২৬ কোটি  টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ডেমু ট্রেন কিনতে চীনের একটি কম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই বছর বেশ কয়েকটি রুটে প্রথমবারের মতো ডেমু ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু দুই বছর না যেতেই ট্রেনগুলো নষ্ট হতে থাকে। এখন ১০ সেট ডেমু ট্রেন চলাচল করছে।

বাকিগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। শুরুর দিকে ডেমু ট্রেনে সবার আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস থাকলেও এখন তা বোঝায় পরিণত হয়েছে।জানা যায়, গতকালের সভায় ডেমু ট্রেনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি সংশোধন করে অন্য ট্রেন কেনার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করতে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত সকালের অফিস সময়ের ট্রেনটি বিরতিহীন করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য পরের ট্রেনগুলোকে সব স্টেশনে বিরতি রাখার কথাও বলেন তিনি।নির্বাচিত ছয়টি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণসংক্রান্ত আলাদা একটি প্রকল্প গতকাল সভায় উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তা অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠান। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি বা ছোট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা সচিব বলেন, নতুন করে মিনি স্টেডিয়াম যেগুলো হবে সেগুলো কলেজ, স্কুল বা মাদরাসার মাঠে হবে না। খোলা জায়গায় হবে। সব ধরনের খেলা সেখানে হবে। তবে স্টেডিয়ামের চারপাশে কোনো বাউন্ডারি দেওয়া যাবে না। সেখানে কী হয়, যাতে সবাই দেখতে পারে। প্রয়োজনে উপজেলা থেকে একটু দূরে হলেও সমস্যা নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মিনি স্টেডিয়ামের একদিকে গ্যালারি থাকবে। বাকি তিন দিক উন্মুক্ত থাকবে। সাধারণ মানুষ যাতে দেখতে পারে মাঠের ভেতরে কী হচ্ছে। সব উপজেলায় একসঙ্গে নয়, পর্যায়ক্রমে প্রকল্প তৈরি করে তা একনেক সভায় উপস্থাপন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকালের একনেক সভায় কক্সবাজার রক্ষায় ঝাউবন করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে একটি মাস্টার প্ল্যান করার নির্দেশ দেন তিনি।সভায় পাঁচ হাজার ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ হবে চার হাজার ১৩০ কোটি টাকা। বাকি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছে সরকার। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দেশের বাইরে থাকায় গতকাল একনেক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করেন পরিকল্পনা সচিব নূরুল আমিন। ।