বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আলীগের

সদ্যসমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তাদের মদদদাতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে বহিষ্কারের আগে ১৫ দিনের সময় দিয়ে অভিযুক্তদের শোকজ করা হবে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক সূত্র জানায়, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ইস্যুটি উত্থাপন করলে বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্য শেষে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। তাদের প্রতিবেদনের সাথে সঙ্গতি রেখে বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও মোহাম্মদ নাসিম। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বিদ্রোহীদের ও মদদদাতাদের কঠোর সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান।সূত্র জানায়, সাংগঠনিক প্রতিবেদনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের নাম ও তাদের অপরাধের মাত্রার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচন ছাড়াও দলের ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তাদের বিষয়েও উল্লেখ আছে প্রতিবেদনে।সূত্রগুলো আরো জানায়, নেতাদের বক্তব্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তাদের যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ইন্ধন ও মদদ দিয়েছেন তাদের সাসপেন্ড (বহিষ্কার) করার নির্দেশ দেন। তবে তার আগে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে তাদের শোকজ (কারণ দর্শানো) করার নির্দেশ দেন তিনি।শেখ হাসিনা বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া দলীয় নেতাদের কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না। কারণ দলীয় শৃঙ্খলা না থাকলে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে পেছনে হাঁটতে হবে।সভায় উপস্থিত নেতারা জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সবাইকেই বহিষ্কারের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রী-এমপি বলে তাদেরকে ক্ষমা করা যায় কি না- বৈঠকে এই প্রশ্ন উঠে আসলে শেখ হাসিনা বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকলে সে যত বড় নেতাই হোক শাস্তির আওতায় আসতেই হবে। এখানে কে মন্ত্রী, কে বড় নেতা, কে প্রভাবশালী, কে সংসদ সদস্য সেটা দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান দলীয় সভাপতি।আলোচনা শেষে শোকাবহ আগস্ট মাসব্যাপী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-৫ আগস্ট শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উদযাপন, ৮ আগস্ট শহীদ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উদযাপন, ১৫ আগস্ট শোকদিবস পালন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ, ২৪ আগস্ট নারীনেত্রী বেগম আইভী রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন।

 যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি রয়েছে : বৈঠকে সারা দেশে চলমান অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির দিকে সরকারের দৃষ্টি রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষকে অবহেলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হয়ে পাশে দাঁড়ানো আর তাদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করার নীতি নিয়ে কাজ করি বলেই আজকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা এটাই চাই।শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সরকার গঠন করে যে জায়গাটাতে নিয়ে আসতে পেরেছি সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল আমাদের দেশের জনগণ ও তাদের সমর্থন। যে কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে। তার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে শক্তিশালী করে জনমত সৃষ্টি করা।।