গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হলে রিকশা এমনিতেই উঠে যাবে

image_titleঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সম্প্রতি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করে জনগণকে স্বল্পদূরত্বের পথ হেঁটে অতিক্রম করার...ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সম্প্রতি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করে জনগণকে স্বল্পদূরত্বের পথ হেঁটে অতিক্রম করার পরামর্শ দিয়েছেন। আর রিকশাচালকদের পরামর্শ দিয়েছেন গ্রামে গিয়ে ধান কাটার।আমি কতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করতে হাঁটব, কতটুকু অতিক্রম করতে হলে কোন বাহন ব্যবহার করব, সে বিষয়ে মেয়রের পরামর্শ প্রদানের কথা নয়, সে সিদ্ধান্ত তো আমিই নেব। অন্যদিকে চলতি বছর বোরো মৌসুমে ধানচাষীরা পর্যাপ্ত মূল্য না পেয়ে ধানের ক্ষেতে নিজেদের হাতে আগুন লাগিয়েছিলেন।

এ অবস্থায় ধানচাষীরা এত বিপুলসংখ্যক রিকশাচালককে পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক দিয়ে তাদের ক্ষেতে নিয়োগ করতে পারবেন, এমন ধারণা মেয়রের কীভাবে হল যা হোক, মূল প্রসঙ্গে আসি। মেয়রের দায়িত্ব হচ্ছে নগরে হাঁটতে চাইলে সে ক্ষেত্রে পথচারীদের যেন কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়ার রাখা। একই সঙ্গে কেউ হাঁটতে অক্ষম হলেও যেন তার চলাফেরা থমকে না যায়, পর্যাপ্ত যানবাহন যেন পাওয়া যায়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা।কারণ যৌক্তিক যে কোনো কারণে স্বল্পদূরত্বের পথও কেউ হাঁটতে অক্ষম হতেই পারে, সে ক্ষেত্রে স্বস্তিদায়ক বিকল্প ব্যবস্থা যে কোনো নগরেই থাকে, এবং মেয়র হিসেবে এ ব্যবস্থা রাখার দায়িত্ব তারই।কিন্তু ঢাকা শহরে কি আসলেই রিকশা থাকার যৌক্তিকতা আছে? ঢাকার মতো একটি মেগাসিটির প্রধান সড়কগুলোয় রিকশার অস্তিত্ব আসলেই অনাকাক্সিক্ষত, বড়জোর পাড়ার ভেতরের অলিগলি রাস্তায় (যেসব রাস্তায় গণপরিবহনের ব্যবস্থা নেই) রিকশা থাকতে পারে। তা সত্ত্বেও রিকশা ঢাকা শহরজুড়ে আছে, নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাই কিন্তু এর কারণ।মেয়র মহোদয় যদি রিকশা নিষিদ্ধ না করে যথাযথ নগর ব্যবস্থাপনায় মনযোগ দিতেন, তাহলে এমনিতেই রিকশা উঠে যেত, সে জন্য এরকম উপদেশ দেয়ার প্রয়োজন হতো না।ঢাকা শহরের সবচেয়ে দুর্ভোগপূর্ণ খাত হল গণপরিবহন। গণপরিবহনের অবস্থা এতই জঘন্য যে অসুস্থ মানুষ দূরে থাক, সুস্থ-সবল মানুষও গণপরিবহন ব্যবহার করলে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা। তার ওপর নারীর নিরাপত্তার অভাবের বিষয়টি তো আছেই।ফলে মানুষ তুলনামূলক অধিক ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও রিকশা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতি জনবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণেই তৈরি হয়েছে।গণপরিবহন সেবা যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক ও পর্যাপ্ত হলে মানুষ এমনিতেই রিকশা ব্যবহার কমিয়ে ফেলবে। ফলে রিকশাচালকরাও ধীরে ধীরে অন্য পেশায় চলে যাবে। এর ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলাও হবে না। কিন্তু গণপরিবহন যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক না হওয়া অবধি রিকশার চাহিদা কমবে না।

ফলে রিকশা নিষিদ্ধ করলে জনদুর্ভোগ যেমন বাড়বে, তেমনি রিকশার মালিক-শ্রমিকদের ক্ষোভও বৃদ্ধি পাবে।রিকশা নিষিদ্ধ করার কারণ হিসেবে যানজটের কথাই মূলত বলা হচ্ছে। ঢাকা শহরের যানজট নিঃসন্দেহে অসহনীয়, কিন্তু এর সমাধান করতে গিয়ে কোনো অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে দরকার পর্যাপ্তসংখ্যক মানসম্মত ও স্বস্তিদায়ক পাবলিক বাস। এ ব্যবস্থা নেয়া হলে রিকশা এমনিতেই উঠে যাবে।মিফতাহ তালহা : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়[email protected]।