আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে ইরান চাইলে আমরাও…

হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপসাগরে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ইরানকে দোষারূপ করেছে সৌদি আরব। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, তাঁর দেশ কোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলা করতে বিচলিত হবে না।
‘মধ্যপ্রাচ্যে আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না, তবে আমরা যে কোনো হুমকি বা হামলা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছি’, সৌদি আরবের আশরাক আল-আউসাত পত্রিকায় একটি সাক্ষাৎকারে বলেন প্রিন্স সালমান।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স আরো বলেন, ‘তেহরানে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সফর তাঁরা সম্মানের চোখে দেখেনি।

তারই ক্ষোভ হিসেবে ওমান উপসাগরে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে ইরান, যার একটি ছিল জাপানের।’
এদিকে সৌদি আরবের তেলের ট্যাংকারে হামলা ঘটনায় ইরান ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়েছে সৌদি আরব।
গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণাণির কাছে ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হয়। ট্যাংকার দুটির একটি নরওয়ের মালিকানাধীন ফ্রন্ট অলটেয়ার এবং অন্যটি জাপানের মালিকানাধীন কোকুকা কারেজিয়াস। ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি ট্যাংকার থেকে তারা ৪৪ জনকে উদ্ধার করেছে।
এক মাসের ব্যবধানে এ নিয়ে ছয়টি ট্যাংকারে চোরাগোপ্তা হামলা হলো। মাসখানেক আগে এমন আরেকটি হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ওমান উপসাগরে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরো চারটি তেলের ট্যাংকার। ওই হামলার জন্যও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করেছিল। যদিও সেবার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।
এই হামলার ঘটনায় ইরানকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্ররা। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা মানতে নারাজ।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন একটি ভিডিও ফুটেজ আছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ড ক্ষতিগ্রস্ত একটি তেলের ট্যাংকারের একপাশ থেকে একটি অবিস্ফোরিত মাইন বা বোমা সরিয়ে নিচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব এ বিষয়ে বলেছেন, সত্যটা কী সেটা ‘স্পষ্টভাবে প্রমাণিত’ হতে হবে।