টাকার বিনিময়ে ৬৫ রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়ায় নিচ্ছিলেন নৌকার সেই ক্যাপ্টেন

image_title৬৫ রোহিঙ্গাকে নিয়ে থাই দ্বীপে আটকে পড়া সেই নৌকার ক্যাপ্টেন স্বীকার করেছেন, টাকার বিনিময়ে তিনি তাদেরকে অন্য দেশে পাড়ি জমাতে সহায়তা করছিলেন। তাদেরকে আন্দামান সাগর হয়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর জন্য তাকে ১৩,৩১৪ মালয়েশীয় রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা) পরিশোধ করা হয়েছিল। এরইমধ্যে থাইল্যান্ডে অবৈধ অভিবাসী নিয়ে আসার প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সাংখোম পাফান নামের ওই ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে।

মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার-এর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ উন্নত জীবনের আশায় থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায়ও পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। মঙ্গলবার (১১ জুন) থাইল্যান্ডের সাতুন প্রদেশের তারুতাও ন্যাশনাল মেরিন পার্কের রায়ি দ্বীপ থেকে ৬৫ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ, ৩১ জন নারী ও পাঁচ শিশু রয়েছে তাদের বহনকারী মাছ ধরার নৌকাটি যান্ত্রিক গোলযোগে পড়ার পর তারা রায়ি দ্বীপে আটকে পড়েছিল। তাদেরকে পরে উদ্ধার করে লাঙ্গু জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
নৌকাটির ক্যাপ্টেন সাংখোম পাফান থাইল্যান্ডের নাগরিক। তিনি রানোং প্রদেশের বাসিন্দা। ৪৯ বছর বয়সী সাংখোমকে চালুং পুলিশ স্টেশনে আটক রাখা হয়েছে। থাই পুলিশের দাবি, সাংখোম স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ থেকে ৬৫ রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার জন্য তাকে ১৩,৩১৪ মালয়েশীয় রিঙ্গিত দিয়েছিলেন মিয়ানমারের এক বিনিয়োগকারী। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর তিনদিন ধরে মাঝ সমুদ্রে নৌকা ভাসিয়ে রেখে জ্বালানি সরবরাহের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। মিয়ানমারের সেই বিনিয়োগকারী তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জ্বালানি সরবরাহ করার। তবে সে জ্বালানি পৌঁছানোর আগেই প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে নৌকাটি একটি দ্বীপে গিয়ে ধাক্কা খায়।
উদ্ধার হ্ওয়া রোহিঙ্গাদের শঙ্খলার রাত্তাফুম জেলার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে।

ওই রোহিঙ্গারা মানবপাচারকারীদের কবলে পড়েছিলেন কিনা তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (১২ জুন) থাই পুলিশ জানায়, বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে থাইল্যান্ডে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে নৌকাটির ক্যাপ্টেন ও পাঁচ ক্রু-এর বিরুদ্ধে। ক্যাপ্টেন থাই নাগরিক আর পাঁচ ক্রু মিয়ানমারের নাগরিক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।