ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা

image_titleএমনিতেই নগদ টাকার সংকটে রয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক। তার মধ্যে অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে এসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়ে...এমনিতেই নগদ টাকার সংকটে রয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক। তার মধ্যে অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে এসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে।চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র থেকেও প্রচুর ঋণ নিচ্ছে সরকার।চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এ খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অথচ এ খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায় আশানুরূপ না হওয়ায় সরকারের ঋণ বেড়েছে।গত অর্থবছর শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণস্থিতি ছিল ৮৮ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ২৬ মে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২ হাজার ২০৮ কোটি টাকায়। ফলে চলতি অর্থবছরের ওই দিন পর্যন্ত সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকার নিয়েছে ৮ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিয়েছে ৫ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণস্থিতির মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকে রয়েছে ৭২ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।জানতে চাইলে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস এ খান যুগান্তরকে বলেন, ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কমানো নিয়ে এমনিতেই অনেক ব্যাংক চাপে আছে। বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ছে খুব ধীরগতিতে। সরকারি আমানত পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। সম্প্রতি বিটিআরসি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে এর একটা প্রভাব পড়তে পারে।

এ প্রসঙ্গে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল হালিম চৌধুরী বলেন, সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে, আবার ফেরত দিচ্ছে, এসব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে কোনো ক্ষতি নেই। তবে দেয়া-নেয়ায় ভারসাম্য বজায় না রাখলে অসুবিধা।সংশ্লিষ্টরা জানান, সুদ হার কমানোর কথা বলে নগদ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) হার কমানো, সরকারি আমানতের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগসহ নানা সুবিধা নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং সুদ হার বেড়েছে।অনেক ব্যাংক এখন ১১ শতাংশ সুদে মেয়াদি আমানত নিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতেও ঋণের সুদহার কমাতে ব্যাংকগুলোর ওপর নানা উপায়ে চাপ সৃষ্টি করছে সরকার। যেসব ব্যাংক ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করবে না, সেখানে সরকারি আমানত রাখা হবে না বলে সম্প্রতি ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নেয়। ৯১ দিন, ১৮২ দিন ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের মাধ্যমে ঋণ নেয়, যা স্বল্পমেয়াদি ঋণ হিসেবে বিবেচিত। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে সুদ হার রয়েছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশের মতো।আর বন্ডের মাধ্যমে সরকার ২ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর ও ২০ বছর মেয়াদি ঋণ নেয়। বর্তমানে সরকারকে এসব ব্যাংকের সুদ হার বাবদ ৬ দশমিক ৩২ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় করতে হয়।অবশ্য সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিতে সরকারকে ১১ দশমিক শূন্য ৪ থেকে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমাতে সাম্প্রতিক সময়ে টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলকসহ নানা কড়াকড়ি করা হলেও বিক্রি কমছে না।চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিট ঋণ নিয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। যদিও এ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা।এসব ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধে বছরে বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। তবে আদায় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা।লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে ৫১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা। বিপুল অংকের এ ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎসের ঋণে সরকারের নির্ভরতা বেড়েছে। আর অভ্যন্তরীণ উৎসের প্রধান খাত ব্যাংকিং সেক্টর ও সঞ্চয়পত্র বিক্রি।।