খরায় পুড়ছে ঢাকার শেয়ারবাজার

টানা দরপতন ও লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে শেয়ারবাজারে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ অর্ধেকে নেমেছে। সেইসঙ্গে পতন হয়েছে মূল্য সূচকেও। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই চার দিনই সূচক কমেছে।এর মাধ্যমে পরপর দুই সপ্তাহ ডিএসইতে মূল্য সূচকের পতন ঘটল। এর আগে টানা তিন সপ্তাহ মূল্য সূচক বেড়েছিল। শেষ সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে (২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। মূল্য সূচকের মতো লেনদেনও কমেছে টানা দুই সপ্তাহ। শেষ সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মূল্য কমেছে। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মধ্যেও ব্যাংক কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে মূল্য সূচকে বড় পতন ঘটেনি।সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৭৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৩৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের টানা দরপতনে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১১১ পয়েন্ট।অপর দুটি সূচকের মধ্যে শেষ সপ্তাহে ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ১৯ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা দশমকি ৯১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এই সূচকটি কমে ২৭ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৪ শতাংশ।অপরদিকে শেষ সপ্তাহে ডিএসই শরিহ্ সূচক কমেছে ১৬ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট বা ১ দশমকি ১৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২৩ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।সূচকের স্বল্প পতন হলেও শেষ সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ২৬১টি বা ৭৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেরই দরপতন হয়েছে। অপরদিকে দাম বেড়েছে মাত্র ৫৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির দাম।শেষ সপ্তাহে মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি কমেছে মোট ও দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ২২১ কোটি ৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৫৩২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বা ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।অপরদিকে শেষ সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ৬ হাজার ১০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ২ হাজার ৬৬১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৮৯ দশমিক ৮২ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দখলে। এছাড়া বাকি ৪ দশমিক ২০ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের।এদিকে গত সপ্তাহে মূল্য সূচক ও লেনদেন কমার পাশাপাশি ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণও কমেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৪ লাখ ১০ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে হাজার ১০২ কোটি টাকা।সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ১১ শতাংশ।দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। ১২০ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।লেনদেনে এরপর রয়েছে- যমুনা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বিবিএস কেবলস, আইএফআইসি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ইফাদ অটোস।