প্রকট হওয়ার আগেই সমাধান করুন

রোহিঙ্গা সংকট আরও প্রকট হওয়ার আগেই তা সমাধানে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এক হয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে ফোরামের যে কোনো উদ্যোগে যোগ দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বিষয়ে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি সমস্যা নিরসনে বেশ কিছু প্রস্তাবও দেন।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) দিনের শেষদিকে এখানে ইউএনজিএ সদর দফতরে রোহিঙ্গা বিষয়ে ওআইসির কনটাক্ট গ্রুপ সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সংকট সমাধানে আপনাদের ঐক্য প্রদর্শন করুন।’ এতে সভাপতিত্ব করেন ওআইসির (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) মহাসচিব ইউসুফ আল ওথাইমেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা মিয়ানমারে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ঢল সামলাতে বাংলাদেশের জন্য ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে ‘জরুরি মানবিক সহায়তা’ চেয়েছেন।তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সামরিক অভিযানে মুসলিম ভাই ও বোনরা জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি হওয়ায় রোহিঙ্গাদের সর্বকালের সবচেয়ে বৃহত্তম দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।প্রধানমন্ত্রী ওআইসি নেতাদের অবহিত করেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে স্থল ও নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে, এদের ৬০ শতাংশই শিশু।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি অসহনীয় মানবিক বিপর্যয়। আমি নিজে তাদের অবস্থা পরিদর্শন করেছি এবং আমি তাদের বিশেষ করে নারী ও শিশুর ভয়ঙ্কর দুঃখ-দুর্দশার ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। আমি আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এবং এখানে এসে মিয়ানমারের বর্বরতার ব্যাপারে তাদের কাছ থেকে শুনুন।’ তিনি বলেন, মিয়ানমার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে প্রচারণা চালাচ্ছে, অবশ্যই তা বন্ধ করতে হবে এবং দেশটিকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে হবে।তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো পর্যন্ত ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলো থেকে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সব ধরনের নির্মমতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’শেখ হাসিনা বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে অবশ্যই তাদের স্বদেশে ফেরত নিতে হবে।তিনি নিরপরাধ নাগরিক বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সুরক্ষা দিতে মিয়ানমারের ভেতরে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরির প্রস্তাব দেন এবং ‘অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে’ কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ উদ্বাস্তুদের বাংলাদেশে প্রবেশের আগে থেকেই গত তিন দশকে বাংলাদেশ তাদের আরও ৪ লাখ উদ্বাস্তু আশ্রয় দিয়েছে।তিনি বলেন, স্থান ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা সব মিলে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছি। বাংলাদেশ দুর্দশাপীড়িত এই লোকদের খাদ্য, আশ্রয় এবং জরুরি সেবা দিয়ে যাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গারা ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী’ মিয়ানমারের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সব ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণ করে যে, রোহিঙ্গারা কয়েক শতাব্দী ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসছে।শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার পরিকল্পনামাফিক সংগঠিত ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের তাদের পৈতৃক নিবাস থেকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করছে এবং নিকট-অতীতে তারা দেশের স্বীকৃত সংখ্যালঘু গ্রুপের তালিকা থেকে প্রথম রোহিঙ্গাদের বাদ দেয়।তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয় এবং পরে তাদের নিজ দেশে ইন্টারনালি ডিসপ্লেস পার্সন’স (আইডিপি) ক্যাম্পে পাঠানো হয়।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সব রোহিঙ্গাকে তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।তিনি বলেন, ‘তবে মিয়ানমার সরকার এ আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না, বরং রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ করতে সীমান্তে স্থলমাইন পেতে রেখেছে।’শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ‘জাতিগত নিধনের’ অবসান দেখতে চায়। ‘মুসলিম ভাই-বোনদের দুর্দশার অবসান হওয়া দরকার। এই সংকটের মূলে মিয়ানমার এবং মিয়ানমারেই এর সমাধান পাওয়া যাবে।’আওয়ামী লীগের সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শরণার্থী হওয়ার বেদনা আমাকে এখনও কাঁদায়। রোহিঙ্গাদের দেখে মনে পড়ে যায় আমারও তো একদিন অন্যের বাড়িতে থাকতে হয়েছে। তখন আমার পরিচয়ও গোপন রাখতে হয়েছে। আজ রোহিঙ্গারা বিপদে পড়েছে। তাই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ খেতে পারলে ১০/১২ লাখ রোহিঙ্গাও খেতে পারবে। তবে মিয়ানমারকে অবশ্যই সব ধরনের নাগরিক সুবিধা দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে।মঙ্গলবার নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হলেও আমার প্রশ্ন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানরাই কেন শরণার্থী হচ্ছে। আজ জাতিসংঘ ভবনে ওআইসির একটি সভায়ও প্রশ্নটি রেখেছি। মুসলিম দেশগুলোর উচিত এ বিষয়ে সজাগ হওয়া।প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে এক মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ছোট ছোট বাচ্চা মা-বাবাকে হারিয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এ দেশে এসেছে। আমি সরেজমিন শরণার্থী শিবির এলাকা পরিদর্শন করেছি। এ অবস্থায় মানুষ হিসেবে তাদের তো আশ্রয় দিতেই হয়। তবে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেয়া হবে না। ইতিমধ্যে বিজিবি ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। আমরা কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীকে বরদাশত করব না। তিনি বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে মিয়ানমারকে বলেছি রোহিঙ্গারা আপনার নাগরিক। তাদের অবশ্যই ফেরত নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। দেশের এ অবস্থায় জাতিসংঘ অধিবেশনে না এলেও পারতাম। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েই আসতে হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এখানে আসা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যেভাবে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে কেউ না খেয়ে থাকবে না। ১৬ কোটি মানুষ খেতে পারলেও রোহিঙ্গারাও খেতে পারবে। অসহায় রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের মানুষ সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করায় বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।মিয়ানমারকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈরিতা নয়, আমরা শান্তি চাই।১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় দেয়া ভাষণের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করে বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে সদস্য পদ নিশ্চিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সব সময় বাঙালি জাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করেছেন। একটি সংবিধান দিয়ে গেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ কিভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশই এর দৃষ্টান্ত। এমন অর্জনের দৃষ্টান্ত আর নেই। ঘাতকরা এই মহান নেতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারাকে স্তব্ধ করে দেয়। এরপর দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই। উন্নয়নও নেই।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয়। মাঝখানে বিএনপি এসে লুটপাট করে আবার খাদ্য ঘাটতি সৃষ্টি করে।তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আমেরিকার ফেডারেল আদালতের মাধ্যমে দুর্নীতির বরপুত্রের টাকা দেশে ফেরত নেয়া হয়েছে। বহু চড়াই-উতরাই পার হয়ে আজ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিণত হয়েছে। এখন মাথাপিছু আয় ১৬শ’ ২ ডলার।প্রধানমন্ত্রী এমন উন্নয়নের বিষয়টি দেশের আত্মীয়স্বজনকে বলার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সভা-সমাবেশে বসে ‘শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার’ স্লোগান না দিয়ে সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের বর্ণনা দিতে হবে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে যেন ভোট দেয় সেই চেষ্টা করতে হবে।সজীব ওয়াজেদ জয় : ‘বাংলাদেশের মাহাথির’ (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আমাদের সবার সামনেই আছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় এমন মন্তব্য করেন।জয় বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করত, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া অনেক এগিয়ে গেছে। মালয়েশিয়ার মাহাথির সরকার টানা চার টার্ম বা ২০ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশের উন্নয়ন করেছেন। বিশ্বে মালয়েশিয়াকে ইনফ্লুয়েনশিয়াল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলে তারা এগিয়ে গেছে। আমাদের মাহাথির কোথায়?’ নিজের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাহাথির আমাদের সামনেই আছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বে অর্থনীতির গতির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রত্যেক বছর বাংলাদেশের মানুষের আয় বাড়ছে, কর্মসংস্থান বাড়ছে, খাদ্যের অভাব নেই, বিদ্যুতের অভাব নেই।’সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর আগের দেশ নেই। আমরা এখন এক নতুন দেশ। আর আওয়ামী লীগ যদি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় থাকে তবে আমরা উন্নত দেশ হব। তাই আমি বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) ভোট দিয়ে বারবার ক্ষমতায় আনতে হবে।যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. ছিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ উপস্থিত ছিলেন।এসডিজি অর্জনে নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর : বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার জন্য টেকসই উন্নয়নের সফল বাস্তবায়নের জন্য নারীর ক্ষমতায়নে তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সমান সুযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। জাতিসংঘ সদর দফতরে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা সম্পর্কিত জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চপর্যায়ের প্যানেলের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনের অতি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হচ্ছে নারী। এজন্য সাসটেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোলসের (এসডিজি) সফল বাস্তবায়নে নারীর ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই। সবক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বিশ্ব সবার জন্য টেকসই উন্নয়ন অর্জনে কার্যকরভাবে সফল হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চপর্যায়ের প্যানেলে সুপারিশ এগিয়ে নিতে গ্রুপ অব চ্যাম্পিয়ন্স ফর উইমেন’স ইকোনমিক এম্পাওয়ারমেন্ট এবং ইউএন উইমেন এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট রিকা লুুইস গুল্লারমো সলিস রিভেরা, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, আইএমএফ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টাইন লাগারদে ও ইউএন উইমেনের ফুমজিল স্লামবো-গচুকা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। ১০ শতাংশ শিল্প প্লট ও ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তহবিল নারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ডেডিকেটেড ডেক্স রয়েছে।এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে যোগদানকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে জেনারেল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন।জলবায়ু প্রশ্নে বৈশ্বিক চুক্তিগুলোকে সামনে এনে সুবিচারের আহ্বানপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তন প্রশ্নে আইনগতভাবে সম্পাদিত দৃঢ় ও কার্যকর বৈশ্বিক চুক্তিগুলোকে সামনে এনে সুবিচার নিশ্চিত করতে এবং তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের জন্য উন্নত দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, সুনির্দিষ্টভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দায়ীদের স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত চিহ্নিত করতে হবে।প্রধানমন্ত্রীর আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে জাতিসংঘের সদর দফতরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন আয়োজিত পরিবেশবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেন।শেখ হাসিনা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নের অধিকার মোকাবেলায় একটি যথাযথ, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই পদ্ধতি গ্রহণের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ এবং দেশগুলোকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, পরিবেশ সম্পর্কিত বৈশ্বিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র দেশগুলোকে বিবেচনায় নিতে হবে।শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পরিবেশ সম্পর্কিত বৈশ্বিক চুক্তি সচল রাখার উদ্যোগ নেয়ার জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট অ্যামানুয়েল ম্যাকরনের প্রশংসা করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দৃষ্টান্ত স্থাপন ও অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্মে বিশ্বাসী। আমরা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম নিজস্ব সম্পদে জাতীয় জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল গঠন এবং জাতীয় জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল প্রণয়ন করেছি। প্রতিবছর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশ জিডিপির ১ শতাংশেরও বেশি ব্যয় করে। এ অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বেকম্যান প্যালেসে যুক্তরাজ্য ও মাল্টার প্রধানমন্ত্রীদ্বয় আহূত কমনওয়েলথ দেশগুলোর প্রধানদের এক সংবর্ধনায় যোগ দেন।সন্ধ্যায় তিনি ম্যাডিসন অ্যাভেন্যুতে প্যালেস হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ অভ্যর্থনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।