ঐতিহাসিক সেই বিচারে হেরে গেলেন হযরত আলী (রা.), সমুন্নত হয় ইসলাম

হযরত আলী (রা.) ইসলামের অনেক মর্যাদাবান সাহাবী। নবীজি (সা.) তাকে জ্ঞানের দরজা বলেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনা, ন্যয়-নিষ্ঠার মূর্ত প্রতীক ছিলেন তিনি। ছিলেন মুসলিম উম্মার চতুর্থ খলিফা। ছিলেন আদর্শ রাষ্ট্রপ্রধান।সর্বময় আদর্শের ধারক বাহক হযরত আলী (রা.) যখন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন তখনকার একটি ঘটনা বেশ আলোচিত। রাষ্ট্রপ্রধান হযরত আলী (রা.) তার একটি লৌহবর্ম হারিয়ে যায়। সেটি হস্তগত হয় এক ইহুদির। ওই ইহুদি বর্মটি পেয়ে কুফার বাজারে বিক্রি করে দেন। হযরত আলী (রা.) অবশ্য নিজেই লৌহবর্ম বিক্রির দৃশ্য দেখে ফেললেন। তখন বিক্রেতা ইহুদিকে বললেন, লৌহবর্মটি তো আমার। আমি কাউকে তা দানও করিনি এবং বিক্রিও করিনি। এটা আমার উটের পিঠ থেকে অমুক দিন অমুক স্থানে পড়ে গিয়েছিল। অতএব বর্মটি ফিরিয়ে দিন। তখন ইহুদি বলল, এটা আমার জিনিস। আমার হাতে। প্রতি উত্তরে হযরত আলী (রা.) বললেন, বর্মটি আমারই, আমাকে ফিরিয়ে দিন।যখন রাষ্ট্রপ্রধান হযরত আলী (রা.) ইহুদির সাথে সমাধানে পৌঁছাতে পারলেন না তখন বললেন, চলো যাই কাযীর (বিচারপতি) আদালতে। কথামত হযরত আলী (রা.) এবং ইহুদি মদিনার বিচারপতি হযরত সূরাইহ (রা.) এর আদালতে হাজির হলেন। বিচারপতি হযরত আলী (রা.)-কে বললেন, আপনার বক্তব্য কী? তিনি বললেন, তার (ইহুদির) কাছে যে বর্ম দেখতে পাচ্ছেন সেটা আমার। এটা অমুক দিন অমুক স্থানে আমার উট থেকে পড়ে গিয়েছিল।এবার বিচারপতি ইহুদির কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার বক্তব্য কী? এটা আমারই। কারণ আমার দখলেই তা রয়েছে। দখল যার সম্পদ তার। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সূরাইহ (রা.) বললেন, আমিরুল মুমিনিন সাক্ষী পেশ করুন। হযরত আলী বললেন, আমার ছেলে হাসান এবং আমার আজাদ করা ক্রীতদাস কুনবুর সাক্ষী।বিচারপতি তখন বললেন, পিতার পক্ষে পুত্রের সাক্ষ্য এবং মুনিবের পক্ষে গোলামের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। তারপর বিচারপতি ইহুদির পক্ষে রায় দিলেন। ইহুদিকে বললেন, বর্মটি আপনার।সেদিন আদালতের বিচারে হযরত আলী (রা.) হেরে গেলেও জয় হয়েছে মূলত ইসলামের।রায় শুনে সেদিন এই ইহুদি যা বলল সত্যিই তা শিক্ষণীয়। ইহুদি বললেন, আমিরুল মুমিনিন আপনি আমাকে আদালতে নিয়ে এলেন। আদালত আপনার বিপক্ষে রায় দিল। অথচ আপনি রাষ্ট্রপ্রধান। বাইশ লক্ষ বর্গ মাইলের মুসলিম বিশ্বের অধিপতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- ইসলাম সত্যধর্ম। আমাকে এই সত্যধর্মের কালেমা পড়িয়ে দিন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। ওই ইহুদি বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন এই বর্ম আপনারই। রাতের আধারে পড়ে গিয়েছিল।