জলবায়ু প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দুই দিনব্যাপী জলবায়ু বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সংলাপের শেষ দিনে এ আহ্বান জানান তারা।‘জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন তহবিল ২: জলবায়ু অর্থায়ন ও সুশাসন বিষয়ে ইন্টেগ্রিটি ডায়ালগ’ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়।সংলাপে যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা ডিএফআইডি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সুশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা আইসলিন বেকার বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু তহবিলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতে যুক্তরাজ্য ভূমিকা রাখছে।”জলবায়ু অর্থায়নে চাহিদা ও সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তিনি বলেন, “জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে সম্মিলিত প্রয়াস নিতে হবে।”জলবায়ু অর্থায়নের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অর্থদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে হবে। আর এ খাতে তহবিল প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ উন্নত দেশগুলোর সাথে এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”তিনি বেসরকারি খাতকে এ প্রকল্পগুলোতে যুক্ত করার বিষয়ে উদ্ভাবনী উপায় বের করার তাগিদ দেন।জলবায়ু সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের উপ-মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জলবায়ু তহবিলের ওপর ছয়টি অডিট প্রতিবেদন আলোচিত হয়েছে। এছাড়াও আরো কয়েকটি প্রকল্পের অডিট বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে আঞ্চলিক প্রচেষ্টার সম্ভাব্য ক্ষেত্র ও উপায় অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ সংলাপে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।এর আগে ২০১৬ সালের মার্চে টিআইবি প্রথমবারের মত জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ে ‘ঢাকা ইন্টেগ্রিটি ডায়ালগ’ এর আয়োজন করে।